ডাবলের সামনে দুই বন্ধু
এনজো ফার্নান্দেজ ও মার্ক কুকুরেয়া
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ১২:২৯
এক বছর আগে নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে একসঙ্গে ট্রফি নিয়ে উচ্ছ্বাস করেছিলেন তারা। মার্ক কুকুরেয়া এবং এনজো ফার্নান্দেজের সেই উদযাপন ছিল চেলসির জার্সিতে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের। দুর্দান্ত পারফর্ম করে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের বিপক্ষে চেলসিকে ৩-০ গোলে জিতিয়েছিলেন তারা। ঠিক ১২ মাস পর, একই মঞ্চে আরেকটি ট্রফির সামনে দাঁড়িয়ে দুই বন্ধু কুকুরেয়া এবং এনজো। আরও একবার নিউইয়র্কের রাজা হওয়ার লড়াইয়ে নামছেন দুজন। তবে এবার ক্লাবের জার্সিতে নয়, দুই বন্ধু একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়ে নামছেন।
রোববার নিউইয়র্কে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে নিজ দেশের শিরোপার জন্য লড়বেন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ এবং স্পেনের কুকুরেয়া। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই লড়াইয়ে তারা খেলবেন মাঠের দুই বিপরীত প্রান্তে। এই রোমাঞ্চকর ফাইনালের আগে, তাদের পারফরম্যান্স তুলে ধরা হলো–
মার্ক কুকুরেয়া (স্পেন)
২০২৪ সালে স্পেনকে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শ্রেষ্ঠত্ব এনে দেওয়ার পর, কুকুরেয়া এক বছর পরই ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের প্রথম বৈশ্বিক শিরোপা নিশ্চিত করেন। নকআউট পর্বে মাত্র দুটি গোল হজম করা এক অসাধারণ রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা ছিলেন এই ফুল-ব্যাক; যার মধ্যে ফ্লুমিনেন্সে এবং শক্তিশালী পিএসজির বিপক্ষে ফাইনালে কোনো গোল না খাওয়ার কৃতিত্বও রয়েছে।
চলতি বিশ্বকাপে এই লেফট-ব্যাক নিজের ক্যারিয়ারকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। লা ন রোজা দলটির ফাইনালে ওঠার যাত্রায় তারা মাত্র একটি গোল হজম করেছে, যেখানে মূল ভূমিকা রেখেছেন কুকুরেয়া। দলের প্রতিটি ম্যাচেই তিনি ছিলেন অপরিহার্য। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণেও দুর্দান্ত অবদান রেখে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুল-ব্যাক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে, শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয়ে ২৭ বছর বয়সী কুকুরেয়া নিজেই মিকেল ওয়াইরসাবালকে দিয়ে দুটি গোল করিয়েছেন এবং তৃতীয় গোলের আক্রমণ তৈরিতেও বড় ভূমিকা রেখেছেন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড মাইকেল ওলিসকে সফলভাবে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন তিনি। সে কারণে রোববারের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের এই নতুন তারকার বিপক্ষে বেশ কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে আর্জেন্টিনাকে।
এনজো ফার্নান্দেজ (আর্জেন্টিনা)
২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার তরুণ উদীয়মান তারকা হিসেবে আলো ছড়ানোর পর, তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ক্লাব বিশ্বকাপে চেলসির অন্যতম প্রধান নেতায় পরিণত হন ফার্নান্দেজ। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত সেই টুর্নামেন্টে তিনি সর্বোচ্চ তিনটি অ্যাসিস্ট করে চেলসির শিরোপা জয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন।
চলতি বিশ্বকাপেও চাপের মুখে দারুণভাবে জ্বলে ওঠার সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন ফার্নান্দেজ। শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে গোল করে তিনি দলের ৩-২ ব্যবধানের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেন। এরপর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যখন আর্জেন্টিনা পিছিয়ে ছিল, ঠিক ৮৫ মিনিটে তাঁর দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শট জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে জালে জড়ায় এবং দলকে সমতায় ফেরায়। পরে ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্তিনেজের গোলে জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার। দল যখন ঘোরতর বিপদে, তখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি গোল আর্জেন্টিনার ফাইনালের পথকে সুগম করেছে। ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আজ ঈশ্বর আমাকে আমার দেশের হয়ে সেমিফাইনালে গোল করার মতো এক অসাধারণ উপহার দিয়েছেন। আমি চাঁদ পাওয়ার মতো আনন্দিত। এই আনন্দের অনুভূতি আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’