ইউরোপের বাইরে খেলা মেসি কি ব্যালন ডি’অর জিততে পারবেন?
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ১৩:৪০ | আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ১৩:৪৩
লিওনেল মেসির আরও কী চাওয়ার থাকতে পারে? এক জীবনে ফুটবল পায়ে যা যা করা সম্ভব ছিল, তার সবই করেছেন। যত পুরস্কার আর ট্রফি জিততে পারতেন তাও জায়গা করে নিয়েছে তার ট্রফি ক্যাবিনেটে। এবার আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে হাতছানি দিচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। সম্ভাবনা আছে তার গোল্ডেন বুট জেতারও। এর মধ্যেই উঠেছে ব্যালন ডি’অরের আলোচনা।
২০২২ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের পরের বছরই ব্যালন ডি’অর জেতেন মেসি। এবারের আসরেও দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনেও নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি রয়েছেন গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। এমন পরিস্থিতিতে ডি’অরের আলোচনা ওঠাটা অবশ্য অমূলক নয়।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও প্রশ্ন উঠেছে মেসির ক্লাব ক্যারিয়ার নিয়ে। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি তো আর ইউরোপের লিগে খেলছেন না। তাও কি মেসি ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে থাকতে পারবেন? ব্যালন ডি’অরের পুরস্কারের স্বত্বাধিকারী সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ সম্ভাবনাটা একেবারেই উড়িয়ে দিচ্ছে না।
বিশ্বকাপের মধ্যেই ব্যালন ডি’অরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের ‘প্রেস রুম’ সেকশনে একটি ফিচার প্রকাশ করা হয়েছে। ফিচারটির শিরোনাম ছিল ‘ইউরোপীয় ক্লাবে না খেললেও কি ব্যালন ডি’অর জেতা সম্ভব?’
আয়োজকদের ব্যাখ্যা, ১৯৫৬ সাল থেকে শুরু হওয়া পুরস্কারটি ইউরোপীয় লিগে খেলা সেরা ইউরোপিয়ান খেলোয়াড়কে দেওয়া হতো। এই নিয়ম ছিল ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত। এরপর নিয়ম বদলে বিশ্বের যেকোনো দেশের খেলোয়াড়ের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হয়। তবে শর্ত ছিল তাকে ইউরোপের লিগে খেলতে হবে।
কিন্তু ২০০৭ সাল থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। এখন নিয়ম একটাই—যিনি বিশ্বের সেরা ফুটবলার, পুরস্কারটি তিনিই পাবেন। অর্থাৎ, ইউরোপের বাইরে খেলেও ব্যালন ডি’অর জেতা সম্ভব।
২০২৩ সালে মেসি অষ্টম ব্যালন ডি’অর জেতার সময় ইন্টার মায়ামির খেলোয়াড়। তবে সেখানে একটি সূক্ষ্ম পরিবর্তন ছিল। ২০২২ সাল থেকে ব্যালন ডি’অর দেওয়া হয় পুরো ক্যালেন্ডার বছরের পরিবর্তে মৌসুমের (আগস্ট থেকে জুলাই) পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে। তাই ২০২৩ সালে মেসি যখন ব্যালন ডি’অর হাতে নেন, তখন তিনি মায়ামিতে যোগ দিলেও তার বিবেচ্য পারফরম্যান্স ছিল পিএসজির হয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবলের মৌসুম এবং ২০২২ বিশ্বকাপ জয়।
এরপর থেকে মেসি আর ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পাননি। এমনকি ২০১১ সালে সান্তোসের হয়ে নেইমারের মনোনয়নের পর পুরুষদের ফুটবলে ইউরোপের বাইরে খেলা কোনো খেলোয়াড় ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পাননি। নারী ফুটবলে অবশ্য ২০১৯ সালে ইউরোপের বাইরে (সিয়াটল রেইন এফসি) খেলে মেগান রাপিনো এই পুরস্কার জেতেন।
এদিকে গত তিন মৌসুম ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন মেসি। ইউরোপের বাইরে খেলায় অনেকের ধারণা ছিল, ইউরোপের শীর্ষ তারকাদের সঙ্গে ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে টিকে থাকা মেসির জন্য অনেকটাই কঠিন হবে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্স সেই ধারণা অনেকটাই বদলে দিয়েছে।
স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের ফলাফল যাই হোক, টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ জয়ের দৌড়ে মেসিকেই এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের লড়াইয়েও তিনি শীর্ষে রয়েছেন।
এবারের ব্যালন ডি’অর দেওয়া হবে গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত পারফরম্যান্স বিবেচনা করে। অর্থাৎ, বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের বড় প্রভাব থাকবে তা না বললেও চলে। অন্যদিকে মায়ামির হয়েও দারুণ ছন্দে রয়েছেন মেসি। জাতীয় দল ও ক্লাবের হয়ে ব্যালন ডি’অরের সময়পঞ্জিতে এখন পর্যন্ত ৪৫টি গোল করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে রেকর্ড নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের বেশ ভালো সম্ভাবনা আছে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে।