ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিএনএনের বিশ্লেষণ

এড়াতে চাওয়া যুদ্ধই এখন সৌদি আরবের নিয়তি

এড়াতে চাওয়া যুদ্ধই এখন সৌদি আরবের নিয়তি
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ | ০৩:৪১ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬ | ০৩:৪৪

গত পাঁচ মাস ধরে চলমান আঞ্চলিক সংঘাত এড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হলো না সৌদি আরবের। ইরান এবং তার দুই আঞ্চলিক প্রক্সি ইরাক ও ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উস্কানিতে রিয়াদ এখন কার্যত চারদিক থেকে অবরুদ্ধ। একের পর এক ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও অর্থনৈতিক অবরোধের মুখে পড়ে অবশেষে সংযম ভাঙতে বাধ্য হয়েছে দেশটি। গত মঙ্গলবার ভোরে মার্কিন বিমানবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে পূর্ব ইরাকে ইরানপন্থি মিলিশিয়ার ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি ফাইটার জেট।

এক দশক ধরে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে নিজেকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে রূপান্তরের চেষ্টা করছিল সৌদি আরব। এই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থেই ২০২৩ সালে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেছিল রিয়াদ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই কৌশল অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। কারণ আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরব নিজেকে আবিষ্কার করেছে ঝড়ের কেন্দ্রে। 

বড় ধাক্কাটি আসে হুথিদের পক্ষ থেকে

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের কাছ থেকে। সম্প্রতি লোহিত সাগর উপকূলে দুটি সৌদি তেল কমপ্লেক্সে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তারা। এর আগে বাব আল মান্দেব প্রণালিতে দুটি সৌদি ট্যাংকারে হামলা চালায় হুথিরা। হরমুজ প্রণালি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তেল রপ্তানির বড় অংশ নতুন রুটে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করেছিল সৌদি আরব। হুথিদের এই অবরোধ তা নস্যাৎ করে দিয়েছে। এ রুটের তিন চতুর্থাংশ তেলই হুথিদের হামলার ঝুঁকিতে।

দ্বিমুখী হুমকির মুখে রিয়াদ

চলতি মাসে তেহরানের একটি ফ্লাইটকে সানায় নামতে না দিয়ে বিমানবন্দরে বোমাবর্ষণ করে সৌদি আরব, যার জেরে হুথিরা সৌদি আরবে হামলা করে। এরই মধ্যে গত সোম ও মঙ্গলবার সৌদির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে দুই দফায় ড্রোন হামলা চালায় ইরানপন্থি মিলিশিয়ারা। বিশ্লেষকদের মতে, হুথিরাই এই মিলিশিয়াদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে। জবাবে  গত মঙ্গলবার ইরাকে পাল্টা আঘাত হানে রিয়াদ। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস পরিচালিত ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার জবাবেই এই যৌথ অভিযান। 

এদিকে পারস্য উপসাগরের ওপার থেকে ইরানি শাহেদ ড্রোন ও স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকিও রয়েছে।

তবে রিয়াদের আশঙ্কা, এই ড্রোন যুদ্ধ ২০১৯ সালের আবকাইক শোধনাগারে চালানো বিধ্বংসী হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। তাছাড়া মার্কিনিরা একসময় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাঁবু গুটিয়ে নিলে ইরান সৌদি আরবের ওপর আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

অর্থনৈতিক ধাক্কা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা

চলমান সংঘর্ষের প্রভাবে বছরের প্রথম প্রান্তিকে বৃহত্তম ত্রৈমাসিক ঘাটতির মুখে পড়েছে সৌদি অর্থনীতি। এর মধ্যে ওয়াশিংটনের অস্থির পররাষ্ট্রনীতি এবং ওপেক থেকে আরব আমিরাতের প্রস্থানের ফলে আঞ্চলিক জোটেও ফাটল ধরেছে। ফলে, এক অশান্ত প্রতিবেশের মাঝে দাঁড়িয়ে অনিবার্য নিয়তিরই অনুসরণ করছে সৌদি আরব।

আরও পড়ুন

×