ন্যাটোর শক্তি যাচাই করতে পোল্যান্ডে হামলা করল রাশিয়া?
পোল্যান্ডের এফ-১৬ ফাইটার জেট। ইনসেটে লুবলিন অঞ্চলে বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল। ছবি: ওনেটের সৌজন্যে
দ্য টেলিগ্রাফ, ওনেট
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ | ১৩:৩২ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৫৩
ইউক্রেনে বুধবার রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এর মধ্যে কিয়েভের প্রতিবেশী ও ন্যাটোর সদস্য পোল্যান্ডে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রুশ ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকলে তা চলমান যুদ্ধে ন্যাটোভুক্ত দেশে প্রথম হামলার ঘটনা হবে।
দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোলিশ সশস্ত্র বাহিনী সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র অনুপ্রবেশের তদন্ত করছে। বুধবার রাতে রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমে পশ্চিম ইউক্রেনের লভিভ শহরে আঘাত হানে। শহরটা পোল্যান্ড সীমান্তের খুব কাছে।
বৃহস্পতিবার পোলিশ সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড জানিয়েছে, পশ্চিম ইউক্রেনের ওপর দিয়ে অন্তত ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র উড়তে দেখা গেছে। সেগুলোর কোনোটি তাদের এলাকায় পড়ে বিস্ফোরণ হয়েছে কি না তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে দেশটির গণমাধ্যম ওনেট জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় অচেনা বস্তুর উপস্থিতি শনাক্তের পর লুবলিন অঞ্চলের একটি মাঠে বিশাল গর্ত দেখা গেছে। ওই বস্তুটি প্রতিহত করতে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করা হয়। বুধবার রাতে আশপাশের বাসিন্দারা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনতে পান। ঘটনার পর লুবলিনের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজে।
পোল্যান্ডকে লক্ষ্য করে মস্কোর ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিষয়টি প্রমাণ হলে, তা ইউরোপের চলমান যুদ্ধে সবচেয়ে বড় উসকানি হিসেবে গণ্য হবে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র এক সতর্কবার্তায় বলেছিল, ন্যাটোর ঐক্য ও শক্তি যাচাই করতে পোল্যান্ডে উসকানিমূলক হামলা করতে পারে মস্কো। তারা এ নিয়ে পরিকল্পনাও করছে। এর আওতায় আছে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ড্রোন হামলা অথবা জোটের অন্তর্ভুক্ত এলাকায় প্রবেশ করা।
ওয়াশিংটনের এই সতর্কবার্তা নিয়ে তখন প্রতিবেদন প্রকাশ করে পোল্যান্ডের গণমাধ্যম ‘ওনেট’। প্রতিবেদনে পোলিশ প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে লেখা হয়, মস্কোর পরিকল্পনার বিষয়ে ওয়াশিংটন একাধিকবার পোল্যান্ডকে সতর্কবার্তা দিয়েছে।
রাশিয়ার এই উসকানির মূল উদ্দেশ্য হবে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেওয়া এবং ইউক্রেনে পশ্চিমা মিত্রদের সহায়তা কর্মসূচি স্থগিতে বাধ্য করা। প্রতিবেদনে ধারণার ভিত্তিতে বলা হয়েছিল, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই হামলা চালানো হতে পারে।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে ওনেট তখন আরও জানায়, উসকানিমূলক পদক্ষেপের মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ড্রোন হামলা অথবা বিমান হামলার মতো পরিস্থিতি তৈরির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হতে পারে পোল্যান্ডকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করতে বাধ্য করা।
পোল্যান্ডের একটি গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে লেখা হয়, সবচেয়ে চরম পরিস্থিতিতে সীমান্ত অঞ্চলে একটি ‘হাইব্রিড হামলা’ও ঘটতে পারে। রাশিয়া বা বেলারুশের সৈন্যদের অনুপ্রবেশের শঙ্কাও আছে। মস্কো এসব ঘটনাকে জিপিএস ত্রুটি ও হেলিকপ্টার উদ্ধারের অভিযান হিসেবে তুলে ধরতে পারে।