ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনায় গাজায় নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হামাস

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনায় গাজায় নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হামাস
×

ছবি- বিবিসি

বিবিসি

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০৯ | আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৬ | ০৯:১৮

গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়েছে হামাস। হামাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিবিসি। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইসরায়েল।

হোয়াইট হাউসের দাবি, এই পরিকল্পনা এমন একটি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা ইসরায়েল আগেই নীতিগতভাবে গ্রহণ করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এখন পর্যন্ত গাজা থেকে স্থায়ীভাবে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রকাশ্যে আগ্রহ দেখাননি। তার ডানপন্থী জোটের শরিকদের বিরোধিতাও এ ক্ষেত্রে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চুক্তির শর্ত ইসরায়েল মেনে চলবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও বোর্ড অব পিসের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে তারা চুক্তি মেনে চলবে। যদি না চলে, তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত হতাশ হবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ঘোষণাটি নিয়ে সংশয় থাকলেও হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মাধ্যমে বিবিসির স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে এবং প্রতিটি ধাপ হবে শর্তসাপেক্ষ, স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত এবং ‘জিরো ট্রাস্ট’ নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত। অর্থাৎ, এক পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত অন্য পক্ষ পরবর্তী ধাপে এগোবে না।

পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতির অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এই প্রক্রিয়া যে কোনো পর্যায়ে স্থবির হয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে প্রথমদিকে কয়েকজন ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তি পান এবং গাজায় ত্রাণ সহায়তা প্রবেশ শুরু হয়। কিন্তু পরে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়, গাজায় পুনরায় হামলা শুরু হয়, ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা শুধু হামাসের অস্ত্র সমর্পণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর আওতায় হামাসের সামরিক অবকাঠামো—সুড়ঙ্গ, ভারী অস্ত্র, অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং অস্ত্রের গুদামও ধাপে ধাপে বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে ছোট ছোট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করা হবে। এরপর দীর্ঘমেয়াদি ও প্রযুক্তিগতভাবে জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হামাসের সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ভাষায়, এটি দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব নয় এবং দীর্ঘ সময়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে।

আরও পড়ুন

×