বোর্ড অব পিসের ঘোষণা
হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র হওয়ার আগে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নয়
ছবি- সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ০০:৪৯
গাজা পুনর্গঠনের নকশা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত বোর্ড অব পিস জানিয়েছে, হামাস পুরোপুরি অস্ত্র সমর্পণ করলেই শুধু গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। আলজাজিরার খবর বলছে, সংস্থাটির পরিচালক নিকোলে ম্লাদেনভ ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়। বোর্ড অব পিস বলছে, হামাস সব ধরনের অস্ত্র সমর্পণ ও সব টানেল ধ্বংস করার শর্ত মানলেই ইসরায়েলি বাহিনী ইয়েলো লাইনের ওপারে ফিরে যাবে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজায় হামাসের অস্ত্র সমর্পণের শর্তসহ একটি চুক্তি ঘোষণা করেন, যাকে ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায় হিসেবে ধরা হচ্ছিল। তবে জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ম্লাদেনভের বৈঠকের আগেই ইসরায়েলি রাজনীতিবিদদের মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাদের দাবি, ট্রাম্পের ঘোষিত চুক্তিটির সঙ্গে ইসরায়েল সরকারের অনুমোদিত খসড়ার মিল নেই।
যুদ্ধবিরতির শর্ত ও হামাসের অবস্থান
হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায় সম্পন্ন করতে সম্মত। তবে হামাসের মধ্যস্থতাকারী গাজী হামাদ বলেছেন, ইসরায়েল যদি আক্রমণ বন্ধ ও সেনা প্রত্যাহারের শর্ত মেনে না চলে, তাহলে চুক্তি মানতে তারা বাধ্য থাকবে না।
গাজায় থামেনি হামলা ও হত্যা
অস্ত্র সমর্পণ নিয়ে আলোচনার মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা জোরদার হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত সপ্তাহে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনার শুরুর পরই হত্যা করা হয়েছে অন্তত ৩৬ জনকে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।
পশ্চিম তীরে সেটেলারদের সহিংসতা, দখলদারিত্ব
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নজিরবিহীন রূপ নিয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এলাকাটিতে প্রতিদিন গড়ে ছয়টির বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি নাবলুস, আল মুঘায়্যির ও হেবরনে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র সেটেলাররা।