ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে ইরানের বিরুদ্ধে কি একা লড়বে ইসরায়েল?

যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে ইরানের বিরুদ্ধে কি একা লড়বে ইসরায়েল?
×

ছবি: আল-জাজিরা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৫:৪৭ | আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৪৯

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের ইঙ্গিত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে একা  সামরিক পদক্ষেপের পথে হাঁটতে পারেন কিনা- এ প্রশ্নই এখন আলোচনায়। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে আসতে চাইলে নেতানিয়াহু একা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা কঠিন হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ঘিরে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যেই বুধবার এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা অব্যাহত রেখেছে। তবে তার উদ্ধৃত বক্তব্যের কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ইরানের সরকার বা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেয়নি।

নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবেন না। যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় মিত্র উল্লেখ করলেও তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে যা করার দরকার, তা-ই করবেন।

এদিকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছেন। ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন গোয়েন্দা তথ্য ওয়াশিংটনে আনার পরিকল্পনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেতানিয়াহু চান যুক্তরাষ্ট্র যেন এই যুদ্ধে জড়িতই থাকে। তার ভাষ্য, ‘বিবি (নেতানিয়াহু) আমাকে বলছেন, কারণ তিনি চান আমি এতে জড়িয়ে থাকি।’

কৌশলগতভাবে হারেনি ইরান
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতে এখনো ইরানকে কৌশলগতভাবে দুর্বল করা সম্ভব হয়নি বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থাও বড় চাপের মুখে পড়েছে। তেলের দাম বেড়েছে, তরল গ্যাস, সার ও পেট্রোকেমিক্যাল কাঁচামালের সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে।

লন্ডনের কিংস কলেজের যুদ্ধবিষয়ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আহরন ব্রেগম্যানের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তার ভাষ্য, যুদ্ধের কোনো মূল লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি। ট্রাম্প এখন যেকোনো মূল্যে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে চান এবং তার প্রধান লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া।

ইসরায়েলের অবস্থান
ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা অবশ্য বলছেন, ইরান এখনো পারমাণবিক সক্ষমতার কাছাকাছি রয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। তাই আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

ইসরায়েলের মিসগাভ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক কোবি মাইকেল বলেন, বর্তমান আলোচনায় স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে মনে হয় না। প্রয়োজনে ইসরায়েল একাই ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

নির্বাচন ও রাজনৈতিক হিসাব
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিক ও বিশ্লেষক অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি অগ্রাহ্য করে এখন ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের একক হামলা চালানো প্রায় অকল্পনীয়। তার ভাষ্য, কেবল ইরান বা হিজবুল্লাহ সরাসরি ইসরায়েলে বড় ধরনের হামলা চালালে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানবিরোধী কঠোর অবস্থান অনেকটা নেতানিয়াহুর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কৌশলেরও অংশ। চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের আগে তিনি নিজেকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আপসহীন নেতা হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।

একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সম্পর্কেও টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। গাজা, সিরিয়া ও ইরান- সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক অবস্থান ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে আগের তুলনায় জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

সূত্র: আল-জাজিরা

আরও পড়ুন

×