মিস ইউনিভার্স কানাডা
আদিবাসী সংস্কৃতির পোশাক পরায় বিতর্ক, ক্ষমা চাইলেন দুই প্রতিযোগী
ছবি- সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ০৩:৪০
কানাডার মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় আদিবাসী সংস্কৃতির পোশাক পরার ঘটনায় সমালোচনার মুখে ক্ষমা চেয়েছেন দুই প্রতিযোগী। প্রতিযোগিতার ‘ন্যাশনাল কস্টিউম’ পর্বে একজন পশমের পোশাক ও বুট এবং অন্যজন পালকের হেডড্রেস পরেছিলেন।
ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে প্রতিযোগিতার আয়োজকেরাও দুঃখ প্রকাশ করেন। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, কোনো পোশাক কারও মনে কষ্ট, ক্ষোভ বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে থাকলে তার জন্য তারা দুঃখিত। তবে এসব পোশাকের মাধ্যমে কাউকে অসম্মান করার উদ্দেশ্য ছিল না বলেও জানানো হয়।
বিতর্কের মধ্যে প্রতিযোগিতার সাবেক বিজয়ী অ্যাশলি কলিংবুল বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলেন। প্লেইন্স ক্রি জনগোষ্ঠীর এই নারী প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে সহ-উপস্থাপক হিসেবে ছিলেন। তিনি বলেন, আদিবাসীদের সংস্কৃতি যথাযথভাবে না বুঝে তা ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য, ‘২০২৬ সাল চলছে, আমাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত।’
প্রতিযোগী কারিসা হ্যাভারক্যাম্পের পরনে ছিল পালকের তৈরি হেডড্রেস। উত্তর আমেরিকার আদিবাসী সংস্কৃতিতে এ ধরনের হেডড্রেস ঐতিহ্যগতভাবে অত্যন্ত সম্মানিত নেতারা ব্যবহার করেন। তার মুখে লাল রঙের একটি হাতের ছাপও আঁকা ছিল, যা নিখোঁজ ও হত্যার শিকার আদিবাসী নারীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পরে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে হ্যাভারক্যাম্প বলেন, তার পোশাক আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের মনে কষ্ট ও ক্ষোভ তৈরি করেছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন বলেও জানান।
অন্য প্রতিযোগী জাসলিন কাইলি ‘আর্কটিক বিউটি’ থিমে পশমের পোশাক, বুট ও দুই বেণি পরেছিলেন। আদিবাসী সংস্কৃতিতে চুল বেঁধে রাখারও বিশেষ সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে।
কাইলি বলেন, আদিবাসী সংস্কৃতিকে অসম্মান বা ভুলভাবে উপস্থাপন করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। বরং কানাডার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে সম্মান ও উদ্যাপন করাই তার উদ্দেশ্য ছিল।
মিস ইউনিভার্স কানাডার নিয়ম অনুযায়ী, ‘ন্যাশনাল কস্টিউম’ পর্বে কানাডার ঐতিহ্য, প্রতীক ও ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত পোশাকের মাধ্যমে দেশটির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার কথা।
বিতর্কের পর ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতার জন্য বিস্তারিত পোশাক নির্দেশিকা তৈরির ঘোষণা দিয়েছে আয়োজকেরা। এতে কোন ধরনের পোশাক সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল এবং কীভাবে বিভিন্ন সংস্কৃতিকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকবে।
প্রতিযোগিতার পরিচালক সনি বোরেলি জানান, ভবিষ্যতে ‘ন্যাশনাল কস্টিউম’ পর্বে অ্যাশলি কলিংবুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত করা হবে। সমাপনী অনুষ্ঠানে কলিংবুল বিষয়টি উত্থাপন করলে বোরেলি আয়োজকদের পক্ষ থেকে ভুলের সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করেন।
কলিংবুল বলেন, সংস্কৃতির প্রতি সম্মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষা ও বোঝাপড়া গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, ভুল থেকে শেখা এবং তা সংশোধন করাই পুনর্মিলনের একটি অংশ।
তবে মিস ইউনিভার্স কানাডায় সাংস্কৃতিক উপস্থাপনাকে ঘিরে বিতর্ক এবারই প্রথম নয়। ২০১৫ সালে প্রতিযোগী পাওলা নুনুজ ভালদেজ ‘ন্যাশনাল কস্টিউম’ পর্বে টোটেম পোলের আদলে তৈরি পোশাক পরার পরও আয়োজকেরা সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
সূত্র: বিবিসি
- বিষয় :
- মিস ইউনিভার্স