ঢাকা শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

কোরীয় যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে উত্তর কোরিয়াকে দক্ষিণ কোরিয়ার আহ্বান

কোরীয় যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে উত্তর কোরিয়াকে দক্ষিণ কোরিয়ার আহ্বান
×

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং। ছবি: রয়টার্স

রয়টার্স

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:৪১

কোরীয় যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে উত্তর কোরিয়া ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আলোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

জাপানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে কোরিয়ার স্বাধীনতালাভের বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক ভাষণে লি জে-মিউং এসব কথা বলেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, দুই কোরিয়ার মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় আলোচনার বিকল্প নেই। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির জন্য উত্তর কোরিয়া ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ প্রয়োজন।

১৯৫৩ সালের ২৭ জুলাই যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে কোরীয় যুদ্ধের সক্রিয় সংঘাত বন্ধ হয়। তবে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ফলে আইনগতভাবে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি এখনো হয়নি।

লি জে-মিউং বলেন, আলোচনার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার কার্যকর পদক্ষেপও খতিয়ে দেখা যেতে পারে। উত্তেজনা কমাতে এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সিউল আগাম ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের এ অবস্থান গত বছর দেওয়া তার প্রতিশ্রুতিরই ধারাবাহিকতা। সে সময় তিনি উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থাকে সম্মান জানিয়ে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন।

তবে দুই কোরিয়ার সম্পর্ক বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন দুই কোরিয়াকে এক করার দীর্ঘদিনের নীতি থেকে সরে এসেছেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে উত্তর কোরিয়ার ‘সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংলাপের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ং দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকেও উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে দেশটি।

১৯৫০ সালের ২৫ জুন উত্তর কোরিয়ার বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক অভিযান শুরু করলে কোরীয় যুদ্ধের সূচনা হয়। সোভিয়েত নির্মিত ট্যাংক ও যুদ্ধবিমানসহ উত্তর কোরিয়ার বাহিনী দ্রুত দক্ষিণের দিকে অগ্রসর হয়। মাত্র তিন দিনের মধ্যে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল দখল করে নেয়।

পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেয়। দীর্ঘ সংঘাতের পর ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। তবে শান্তিচুক্তি না হওয়ায় দুই কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারেনি।

বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৬০ মাইল দীর্ঘ অসামরিকীকৃত অঞ্চল বা ডিমিলিটারাইজড জোন (ডিএমজেড) রয়েছে। এই সীমান্ত এলাকায় বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন রয়েছে। ফলে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমানো এবং স্থায়ী শান্তিব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এখনো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
 

আরও পড়ুন

×