দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের
ছবি: রয়টার্স
রয়টার্স
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৫২
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার জন্য পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছেন। সামরিক মহড়ার ব্যয় এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপে দক্ষিণ কোরিয়ার অংশ না নেওয়ার বিষয়টি এ সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ নির্দেশের কথা জানান। একই পোস্টে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার প্রতি এসব মহড়া বৈরী বার্তা পাঠায় বলেও মন্তব্য করেন ।
প্রতিবছরের ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামে পরিচিত যৌথ সামরিক মহড়াটি সোমবার শুরু হয়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। এতে প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নিচ্ছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মহড়া শুরু হয়েছে। তবে ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি ছুটি থাকায় দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ সেনা দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন রয়েছে। তাদের ব্যয়ভার এবং এ অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের ভূমিকা নিয়ে ওয়াশিংটন ও সিউলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও মতপার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্প আগেও দক্ষিণ কোরিয়াকে প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ট্রাম্পের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন কিছু বিশ্লেষক। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে উত্তর কোরিয়া নিয়মিতভাবে নিজেদের বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে অভিযোগ করে আসছে।
ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে এর আগে তিনটি শীর্ষ বৈঠক হয়েছে। দুই নেতার সম্পর্ক একসময় তীব্র উত্তেজনায় পৌঁছালেও পরে তাঁদের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ তৈরি হয়। তবে এসব বৈঠকের পরও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়াও একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, দেশটি এমন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে অগ্রগতি করেছে, যা উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছানোর সক্ষমতা রাখে।
ট্রাম্পের নির্দেশের পর যৌথ সামরিক মহড়ার কোন কোন অংশ কমানো হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া সরাসরি গোলাগুলির অনুশীলনের পাশাপাশি কম্পিউটারভিত্তিক সিমুলেশনের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, মহড়ার পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি সরাসরি সামরিক অনুশীলনের পরিবর্তে সিমুলেশন ও কম ঝুঁকিপূর্ণ প্রশিক্ষণ বাড়ানো হতে পারে।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সঙ্গে ইরান প্রসঙ্গও যুক্ত হয়েছে। তিনি জানান, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। তবে সিউল এতে সম্মতি দেয়নি বলে দাবি করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নতুন অবস্থান ওয়াশিংটন-সিউল জোটের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনাও সামনে এসেছে।
- বিষয় :
- ডোনাল্ড ট্রাম্প
- দক্ষিণ কোরিয়া
- যুক্তরাষ্ট্র