ভারতে মার্বেল বর্জ্যের স্তূপ এখন অপ্রত্যাশিত পর্যটনকেন্দ্র
ভাগাড়ের নিচু স্থানে বৃষ্টির পানি জমে দৃষ্টিনন্দন জলাশয় তৈরি হয়েছে। ভারতের রাজস্থানে। ছবি: এএফপি
এএফপি
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:২৩ | আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:৩৫
স্থানটি মূলত মার্বেল বর্জ্যের একটি বড় স্তূপ। কিন্তু প্রথম দেখায়, তুষারে ঢাকা উপত্যকার মতো মনে হয়। ভারতের রাজস্থানের বিশাল এলাকা জুড়ে থাকা ভাগাড়টি বর্তমানে পর্যটক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সামাজিক মাধ্যমের অনুরাগীদের কাছে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
প্রায় ৮২ একর আয়তনের ভাগাড়টি রাজস্থানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিষানগড়ে অবস্থিত। এটি রাজ্যের প্রধান মার্বেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। মার্বেল ও গ্রানাইট মসৃণ করার সময় যে তরল বর্জ্য (স্লারি) তৈরি হয় সেটি এই ভাগাড়ে জমতে জমতে তুষারে ঢাকা উপত্যকায় রূপ নিয়েছে।

কিষানগড়ের চকচকে সাদা টিলাগুলোর মধ্যে নবদম্পতিরা এখন বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি (ওয়েডিং ফটোগ্রাফ) তোলেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মিউজিক ভিডিওর কলাকুশলীরা স্থানটিকে ‘ব্যাকড্রপ’ হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। দর্শনার্থীদের কেউ কেউ উঁচু-নিচু স্থানটিতে ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে বেড়ান।
স্থানটির জনপ্রিয়তার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম। বেড়াতে আসা অনেক দর্শনার্থী এটিকে তুষারাবৃত আলপাইনের দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করেন। বৃষ্টি হলে টিলাগুলোর নিচু স্থানে জমা পানি দৃষ্টিনন্দন জলাশয়ের রূপ পায়। যা স্থানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

তবে ভাগাড় হওয়ার কারণে এখানকার পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়ে বারবার সতর্ক করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন গবেষণায় আশপাশের এলাকার পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা ও কিছু ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
গত জানুয়ারিতে ভারতের শীর্ষ পরিবেশ আদালত পরিবেশগত ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এতে অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ফেলার পরিবর্তে তরল বর্জ্য (স্লারি) পুনর্ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, এখানে পানি নিষ্কাশনের কোনো কূপ, ধুলা নিয়ন্ত্রণ, ভূগর্ভস্থ পানি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা এবং কোন প্রতিরক্ষামূলক সবুজ বলয় নেই। কিন্তু এসব উদ্বেগের কথা দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় থামাতে পারেনি। চোখধাঁধানো সৌন্দর্য দেখতে তারা নিয়মিত সেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন।
- বিষয় :
- পর্যটন কেন্দ্র
- রাজস্থান
- ভারত