ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০ বছর পর খোঁজ মিলল ‘কাস্টার্ড-চকোলেট’ মথের

২০ বছর পর খোঁজ মিলল ‘কাস্টার্ড-চকোলেট’ মথের
×

ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:৪৬

ইংল্যান্ডের নর্থাম্বারল্যান্ডে বিরল প্রজাতির একটি মথের সন্ধানে প্রায় দুই দশক ধরে ঘুরেছেন সংরক্ষণকর্মী ডেভ ওয়েইনরাইট। ২০০৪ সালে প্রথমবার ওয়ালিংটন এলাকায় খোঁজ চালিয়েও কোনো সন্ধান পাননি। ২০ বছর পর একই এলাকায় হাঁটতে গিয়ে অবশেষে তিনি খুঁজে পেলেন সেই মথ- ডার্ক বর্ডার্ড বিউটি।

এটি ইংল্যান্ডের অন্যতম বিরল মথ। হলুদাভ বা লেবু রঙের ডানার চারপাশে গাঢ় বাদামি-চেস্টনাট রঙের সীমানা থাকায় দেখতে অনেকটা কাস্টার্ড ও চকোলেটের মতো। ওয়েইনরাইটের দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এই আবিষ্কার শুধু একটি বিরল প্রজাতির অস্তিত্বের প্রমাণই দেয়নি, বরং বিলুপ্তির আশঙ্কায় থাকা মথটির টিকে থাকার সম্ভাবনাও নতুন করে তৈরি করেছে।

ওয়েইনরাইট ২০০৪ সালে প্রথম ওয়ালিংটনে জরিপ করতে গিয়েছিলেন। সাইট থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে গাড়ি রেখে তাকে মথ ধরার ফাঁদ বহন করে যেতে হয়েছিল। সেখানে পৌঁছে অসংখ্য মাছির কামড়ও খেতে হয়েছিল। কিন্তু সারা রাত খুঁজেও একটি ডার্ক বর্ডার্ড বিউটি মথের দেখা পাননি।

তখন এলাকাটিতে ভেড়ার ব্যাপক বিচরণ ছিল। মথের শুঁয়োপোকার খাবার ক্রিপিং উইলো গাছের গাছপালা ভেড়া প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট করে ফেলেছিলো। তবু অনুসন্ধান থামাননি ওয়েইনরাইট।

৭৪ বছর পর আবার দেখা
দুই দশক পর প্রকল্প কর্মকর্তা শার্লট র‌্যাঙ্কিন ও ন্যাশনাল ট্রাস্টের কর্মীদের সঙ্গে একই এলাকায় হাঁটতে গিয়ে ওয়েইনরাইট মথটির একটি ছোট জনসংখ্যার সন্ধান পান। ওয়ালিংটনে এর আগে সর্বশেষ ১৯৫২ সালে এই মথের অস্তিত্বের রেকর্ড পাওয়া গিয়েছিল।

ওয়েইনরাইট বলেন, ‘অনুভূতিটা ছিল অসাধারণ। ওই জায়গায় এর আগে মথটির রেকর্ড ছিল, কিন্তু ৭৪ বছর আগে। প্রায় ২০ বছর আগে আমি সেখানে জরিপ করেও কিছু পাইনি। এত দীর্ঘ সময় চেষ্টা করার পর অবশেষে এটি খুঁজে পাওয়া সত্যিই তৃপ্তির।’

ওয়েইনরাইটের ধারণা, ২০০৪ সালেও মথটি ওই এলাকায় ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত চারণের কারণে উইলো গাছের ঝোপ এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল যে মথটির উপস্থিতি চোখে পড়েনি।

বিলুপ্তির আশঙ্কা ছিল
ডার্ক বর্ডার্ড বিউটি মথের জন্য এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এর অস্তিত্ব নিয়ে সংকট তৈরির কারণে। এত দিন ইংল্যান্ডে এই মথের একমাত্র পরিচিত আবাসস্থল ছিল ইয়র্কশায়ারের স্ট্রেনসাল কমন। সেখানেও এর সংখ্যা দ্রুত কমে আসছে। প্রায় ২০ বছর আগে সেখানে শত শত মথের দেখা মিললেও সাম্প্রতিক হিসাবগুলোতে সংখ্যা দুই অঙ্কে নেমে এসেছে।

জলবায়ু পরিবর্তন এবং একটি বড় দাবানল ওই আবাসস্থলের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।

ওয়েইনরাইট বলেন, তার আশঙ্কা ছিল, তার কর্মজীবনেই হয়তো প্রজাতিটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কোনো একটি প্রজাতি নিজের দায়িত্বের সময়ে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে- এমন অনুভূতি অত্যন্ত অসহায় করে তোলে। তাই নতুন আবাসস্থলে মথটির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া তার কর্মজীবনের অন্যতম আনন্দের ঘটনা।

বাঁচতে দরকার মাত্র দুই ধরনের গাছ
ডার্ক বর্ডার্ড বিউটি মথ সংরক্ষণের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো এর শুঁয়োপোকার খাবারের সীমাবদ্ধতা। শুঁয়োপোকা মাত্র দুটি উদ্ভিদ খায়- অ্যাসপেন ও ক্রিপিং উইলো।

তাই আবাসস্থল সংরক্ষণে সামান্য ভুলও মথটির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ওয়েইনরাইট এখনই বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চাইছেন না।

তার মতে, ওয়ালিংটনে মথটি ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষের বিশেষ কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই টিকে আছে। তাই আবাসস্থল কীভাবে কাজ করছে, সেটি আগে ভালোভাবে বোঝা প্রয়োজন। তাড়াহুড়া করে পরিবেশ পরিবর্তন করলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে তাই মূল কাজ হচ্ছে পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ।

বাটারফ্লাই কনজারভেশন ইতিমধ্যে ডার্ক বর্ডার্ড বিউটি মথের বন্দী প্রজনন কর্মসূচির প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্টের সঙ্গে যৌথভাবে স্ট্রেনসাল কমনে এই কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা গেলে মথটিকে নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরও পড়ুন

×