ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আলজাজিরার বিশ্লেষণ

ককরোচ আন্দোলনে বিজেপি কি বদলাবে

ককরোচ আন্দোলনে বিজেপি কি বদলাবে
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ০০:১৮

চলতি মাসের ৪ তারিখ ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় শহর পাটনার একটি ভোটকেন্দ্রে ধাক্কা খায় ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এই শহরে দলটি গত ১২ বছরের মধ্যে অন্যতম বড় নির্বাচনী বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। বিহার রাজ্যের বিধানসভার আসন ব্যাংকিপুর তিন দশক বিজেপির দখলে ছিল। কিন্তু প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত জন সুরাজ পার্টি সেই আধিপত্যের অবসান ঘটায়। দলটি এমন একটি আসনে জয় পায়, যেটি মাত্র কয়েক মাস আগেও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন প্রতিনিধিত্ব করতেন।

এই পরাজয়ের দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে টানা সাত সপ্তাহের আন্দোলনের মুখে পদ ছাড়েন তিনি। আন্দোলনটি নয়াদিল্লিকে নাড়িয়ে দিয়ে দেশের বিভিন্ন শহরেও ছড়িয়ে পড়েছিল। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। গত মে মাসে ইনস্টাগ্রামে আত্মপ্রকাশ করা একটি ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন এটি। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বেকার তরুণ ভারতীয়দের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করার পর সংগঠনটির জন্ম।

বিজেপি নেতা নিতিন ব্যাংকিপুরের নির্বাচনী প্রচারে জেনজি আন্দোলনকারীদের ‘দেশ ভাঙার জন্য নিবেদিত একটি ভাইরাস ও তেলাপোকা বাহিনী’ বলে আক্রমণ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাঙন ধরেছে বিজেপিরই দীর্ঘদিনের নির্বাচনী দুর্গে। অপ্রত্যাশিত এই নির্বাচনী ফল ভারতের সামনে আরও বড় একটি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রশ্নটি হলো, বিজেপি কি এবার তাদের রাজনীতির ধরন পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে?

বিজেপি যে জেনজির এই আন্দোলনকে সাময়িক বিরক্তি হিসেবে দেখছে না, তার সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ দলটির প্রতিক্রিয়ায় দেখা দেওয়া অস্বস্তি। আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইনস্টাগ্রামে একের পর এক সেলফি ধাঁচের ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের বলেছিলেন, তরুণরা শুধু ইনস্টাগ্রামেই থাকে। তাই মন্ত্রীদেরও সংবাদ সম্মেলনের পরিবর্তে ইনস্টাগ্রামে রিলসের মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছানোর পরামর্শ দেন মোদি।

উত্তর প্রদেশেও বিজেপি জেনজি তরুণদের কাছে পৌঁছানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের স্কুলে গিয়ে ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নয়াদিল্লিভিত্তিক বিশ্লেষক আসিম আলীর মতে, সামাজিক মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের জন্য বিজেপির আকস্মিক দৌড়ঝাঁপ দলটির ভেতরের একটি বড় পরিবর্তনকে প্রকাশ করে। একসময় বিজেপি এমন সব রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করতে পারত, যা দলটির সমর্থকরা নিজেরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে দিতেন। কিন্তু এখন দলটির অনেক প্রচারণাই ‘পরিকল্পিত ও অর্থের বিনিময়ে পরিচালিত’ বলে মনে হচ্ছে।

প্যারিসের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক জিল ভার্নিয়েরও বিজেপির উদ্যোগকে নীতিগত পরিবর্তনের বদলে ‘মানুষের ধারণা বদলের লড়াই’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, বিজেপির জন্য যে বিষয়টি সত্যিই ভেঙে পড়েছে, তা হলো ভিন্নমত দমনে তাদের প্রচলিত কৌশল। আগে বিক্ষোভকারীদের ‘দেশবিরোধী’, ‘বিদেশি অর্থে পরিচালিত’ কিংবা ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। ২০১৯-২০ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএবিরোধী আন্দোলনের সময়ও এমনটি করা হয়েছিল।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে প্রথমবারের মতো নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মীয় শর্ত যুক্ত করা হয়। ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা অমুসলিম আশ্রয়প্রার্থীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য অপেক্ষাকৃত দ্রুত পথ তৈরি করা হয়। কিন্তু এবার সেই কৌশল কাজ করেনি।

আরও পড়ুন

×