কলকাতায় আগুন
দমকল অফিসের পাশেই হোটেল, ছিল না জরুরি বহির্গমনপথ
সরু সিঁড়ি ও ঘিঞ্জি পরিবেশের মধ্যেই ভবনটির বিভিন্ন তলায় হোটেল পরিচালিত হচ্ছিল। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:৪৭ | আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:০৮
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় যে হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি হয়েছে, সেটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর থেকে মাত্র ঢিল ছোড়া দূরত্বে পাঁচতলা ভবনটিতে জরুরি পরিস্থিতিতে বের হওয়ার জন্য আলাদা সিঁড়ি ছিল না। সরু সিঁড়ি ও ঘিঞ্জি পরিবেশের মধ্যেই ভবনের বিভিন্ন তলায় হোটেল ব্যবসা চলছিল।
মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কলকাতার ব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে আগুন লাগে। তৃতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। ধোঁয়ার কারণে কক্ষ থেকে অনেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন, যাদের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশি।
স্থানীয় বাসিন্দারা ধোঁয়ার উৎস শনাক্ত করে উদ্ধারকাজে হাত লাগান এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে দমকলের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতর থেকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত ছয়জনের চিকিৎসা চলছে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে।
হোটেলটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পর্যাপ্ত পানি, আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং জরুরি বহির্গমনপথ না থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিউমার্কেট থানা ও কলকাতা পৌরসভার এত কাছে এমন একটি হোটেল কীভাবে চলছিল, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের বিস্ফোরণ বা শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা তদন্ত করছেন। পুলিশ হোটেলটি সিল করে দিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি ও একজন ভারতের ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
- বিষয় :
- কলকাতা
- অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু
- ভারত
- হোটেল