ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
×

মহুয়া মৈত্র

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:৪৩ | আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ২২:০৮

একাধিকবার নির্দেশ দেওয়ার পরও আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার একটি আদালত। আজ বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাকে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে হাজিরা দেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন বিচারক। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় কৃষ্ণনগর আদালতের বিচারক দিব্যেন্দু দাস এই পরোয়ানা জারি করেন। 

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, কৃষ্ণনগরের এই সাংসদের বিরুদ্ধে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে মহুয়া মৈত্র আদালতে যাবেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু মহিলা ডিম হাতে আদালত চত্বরে জড়ো হন। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এর পরপরই মহুয়া মৈত্র একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি ওই মহিলাদের বোরখা পরার পরামর্শ দেন, যাতে কেউ তাদের চিনতে না পারে।

এই ভিডিও বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন কৃষ্ণনগর আদালতে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগকারী কৃষ্ণনগরের নাজিরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা চয়ন নন্দী দাবি করেন, ‘সাংসদ তার ভিডিও বার্তায় যে বক্তব্য রেখেছেন, তা মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। একই সঙ্গে এটিকে একটি ধর্মীয় উসকানিমূলক মন্তব্য হিসেবেও উল্লেখ করা হয়, যা উভয় ধর্মের জন্যই অবমাননাকর।’

মৈত্রের আইনজীবী বিচারকের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, তৃণমূলের এই সংসদ সদস্য উপস্থিত হলে আদালত চত্বরের বাইরে তিনি হেনস্তার শিকার হতে পারেন।

পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৈত্রের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৭৯ ধারা (নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা), ১৯৬ ধারা (বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা উসকে দেওয়া), ২৯৯ ধারা (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা), ৩৫১ ধারা (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন) এবং ৩৫৩(২) ধারা (বিদ্বেষমূলক বক্তব্য)-এর অধীনে করা হয়েছে।

২০২৫ সালের আগস্টে নদীয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের বিষয়ে কথা বলার সময় মৈত্রের করা এক মন্তব্যের জেরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। 

আরও পড়ুন

×