প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ছাড়াল ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ০৪:৩৮
প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মোট জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। রাজস্ব সংকোচন, সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং ঋণের বিপরীতে রেকর্ড পরিমাণ সুদ পরিশোধের কারণে দেশটির ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক শূন্য ৪৭ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ ৪ হাজার ৭০০ কোটি) ডলার। এর মধ্যে জনগণের কাছে থাকা ট্রেজারি সিকিউরিটিজের পরিমাণ ৩২ দশমিক ২৭ ট্রিলিয়ন ডলার এবং বিভিন্ন সংস্থার কাছে ঋণ ৭ দশমিক ৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার।
এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে ট্রাম্প ও বাইডেনের আমলে
রয়টার্স জানায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার ক্ষমতা গ্রহণের সময় এই ঋণের পরিমাণ ছিল ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি ঋণ বৃদ্ধির এক-তৃতীয়াংশই ঘটেছে ট্রাম্প ও জো বাইডেনের আমলে কভিড মহামারির সময় নেওয়া জরুরি ঋণ কর্মসূচির কারণে।
ট্রাম্পের দুই মেয়াদ মিলিয়ে ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে ১১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার। যার মধ্যে প্রথম মেয়াদে ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্ত হয় আরও ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। অপরদিকে জো বাইডেনের চার বছরে মহামারি পরিস্থিতি, পরিকাঠামো এবং ক্লিন এনার্জি খাতের পেছনে ব্যয়ের কারণে ঋণ বেড়েছে ৮ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার।
২০ বছরে ঋণ বেড়েছে ৪ গুণ
গবেষণা সংস্থা ‘কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেট’-এর সভাপতি মায়া ম্যাকগিনিয়াস বলেন, ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ঋণ ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। অথচ ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর মাত্র পাঁচ মাসের কম সময়ের মধ্যে এটি ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে।
১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হয় সুদে
প্রতিবছর প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি খরচ হয় সামাজিক নিরাপত্তা, বয়স্ক ও নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মতো বাধ্যতামূলক কর্মসূচিতে। এর পাশাপাশি ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয় ঋণের সুদ পরিশোধে।
নাগরিকদের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা
গত ২০ বছরেরও কম সময়ে ঋণের পরিমাণ ৪ গুণ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান গতি বজায় থাকলে আগামী ছয় বছরে এই ঋণ ৫০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। লাগামহীন এই ঋণ মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলার পাশাপাশি বৈশ্বিক পরাশক্তিটির আর্থিক ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পাশাপাশি নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বন্ডের বাজারে প্রভাব
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ড ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের জাতীয় ঋণ এখন বন্ড মার্কেটকেও প্রভাবিত করছে। সম্প্রতি মার্কিন ৩০ ও ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের রিটার্ন বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঘাটতি বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির উদ্বেগে বিনিয়োগকারীরা এখন অতিরিক্ত মুনাফা দাবি করছেন। ফল স্বরূপ, ২০২৫ সালে ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডি’স যুক্তরাষ্ট্রের রেটিং এক ধাপ কমায়। মাইকেল পিটারসনের মতে, বর্তমান ধারা বজায় থাকলে আগামী ছয় বছরে এই ঋণ ৫০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।
- বিষয় :
- যুক্তরাষ্ট্র
- ঋণ