ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইফোনের কিস্তি নিয়ে বিরোধ

ছেলের সঙ্গে পাহাড় থেকে পড়ে গেলেন বাবা-মা

ছেলের সঙ্গে পাহাড় থেকে পড়ে গেলেন বাবা-মা
×

পাহাড় থেকে পড়ার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

এনডিটিভি

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৫৮

আইফোনের কিস্তির টাকা দেওয়া নিয়ে বাবার সঙ্গে তর্কের পর পাহাড়ে উঠে গিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী কুনাল চন্দগুড়ে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাকে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেন বাবা-মা, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা। ছেলেকে আটকাতে গিয়ে পাহাড় থেকে পড়ে মারা যান বাবা। এরপর ছেলের মৃত্যুর দৃশ্য দেখে পাহাড় থেকে পড়ে মৃত্যু হয় মায়েরও।

শুক্রবার ঘটনাটি ঘটে তিসগাঁও এলাকার খাভদ্যা পাহাড়ে। নিহত কুনালের বাবা মুরলিধর চন্দগুড়ে (৪৮) পেশায় গাড়িচালক ছিলেন। তার স্ত্রী সংগীতা এবং ছেলে কুনাল একই পরিবারের সদস্য। তাদের বাড়ি ছিল জালতা ফাটা এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুনাল কিস্তিতে একটি আইফোন কিনেছিলেন। কিন্তু মাসিক কিস্তির টাকা পরিশোধ করার মতো অর্থ তার কাছে ছিল না। এ নিয়ে পরিবারের কাছে টাকা চাইছিলেন তিনি। সর্বশেষ কিস্তির টাকা দেওয়া নিয়ে বাবার সঙ্গে তার তর্ক হয়। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কাছের পাহাড়ে উঠে যান কুনাল।

পাহাড়ে গিয়ে কিনারায় দাঁড়িয়ে নিজেকে নিচে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকেন তিনি। খবর পেয়ে তার বাবা-মা সেখানে ছুটে যান। তাদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও দমকলকর্মীরাও যোগ দেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে কুনালকে বুঝিয়ে নিরাপদ জায়গায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলে।

ঘটনাস্থলে থাকা সাবেক সরপঞ্চ সঞ্জয় যাদবও কুনালকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তাকে মায়ের কথা ভাবতে এবং ভবিষ্যতের কথা মনে করতে বলা হয়। এমনকি তাকে নতুন আইফোন দেওয়ার কথাও বলেন কেউ কেউ। কিন্তু কুনাল কোনোভাবেই পাহাড়ের কিনারা থেকে সরে আসতে রাজি হননি।

স্থানীয়দের ধারণ করা একটি ভিডিওতে কুনালকে উদ্দেশ করে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘মায়ের জন্য বাঁচো।’ জবাবে কুনাল বলেন, তিনি মারা যেতে চান এবং এটিকেই একমাত্র পথ মনে করছেন।

শেষ ১৫ থেকে ২০ মিনিটে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এতক্ষণ নিচ থেকে ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন মুরলিধর। পরে তিনি পাহাড়ের কিনারার কাছে ছেলের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। দুপুর ১টার দিকে কুনাল কিনারার দিকে এগিয়ে গেলে বাবা তাকে ধরে ফেরানোর চেষ্টা করেন। এ সময় দুজনই ভারসাম্য হারিয়ে নিচের খাদে পড়ে যান।

স্বামী ও ছেলেকে নিচে পড়ে যেতে দেখে কিছুক্ষণ পর পাহাড় থেকে পড়ে যান সংগীতাও। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

ঘটনাটি নিয়ে কুনালের মানসিক অবস্থার বিষয়ে নানা কথা সামনে এলেও তিনি কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। তদন্তকারীরা পারিবারিক বিরোধ ও ঘটনার অন্যান্য কারণ খতিয়ে দেখছেন। প্রায় তিন ঘণ্টার উদ্ধারচেষ্টার পরও একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
 

আরও পড়ুন

×