ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর নতুন শত্রু ‘তুরস্ক’

নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর নতুন শত্রু ‘তুরস্ক’
×

নির্বাচনী বিলবোর্ড। ছবি- রয়টার্স

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ০০:৫৫

ইসরায়েলের নির্বাচন সন্নিকটে। চলতি বছরের শেষেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এটির। নির্বাচনে আবারও অংশ নিচ্ছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে নানা কারণে দেশের ভেতরে তাঁর জনমত ভালো অবস্থানে নেই। নতুন বাস্তবতায় ভোট টানতে ‘নতুন শত্রু’ বেছে নিয়েছেন নেতানিয়াহু। তাঁর এবারের শত্রু তুরস্ক।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবর বলছে, ইসরায়েলের তেল আবিবের প্রধান সড়কে নেতানিয়াহু বড় বিলবোর্ড দিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। সে বিলবোর্ডে রয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের ছবি। তার পাশেই রয়েছে ইরান, হিজবুল্লাহ ও নিউইয়র্কের মেয়রের ছবি। নিচে স্লোগান লেখা– ‘তারা চান নেতানিয়াহু হেরে যান। তাদেরকে বিজয়ী হতে দেবেন না।’       

কয়েক দিন আগে ইসরায়েলের সামরিক হামলার মুখেও পড়েছে তুরস্ক। উত্তর সিরিয়ায় আবু আল-দাহার বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। বিষয়টি দেখে আপাতদৃষ্টিতে সিরিয়ায় হামলা মনে হলেও ঘটনা আদতে তা না। সেখানে তুরস্কের সামরিক বাহিনী নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করছিল বলে খবর এসেছিল। ফলে হামলাটি ইসরায়েল চালিয়েছিল তুরস্কের সামরিক বাহিনী লক্ষ্য করে।

ইসরায়েলের নির্বাচনের আর মাত্র দুই মাস বাকি। ফলে দেশটির ভেতরেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আসলেই কি তুরস্ক কৌশলগত হুমকি? নাকি ব্যালট বাক্সে জোর পেতেই এ কাজ করছেন নেতানিয়াহু? 

সিএনএনের খবর বলছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নিজেকে ইসরায়েলের ‘সুরক্ষা মানব’ হিসেবে সবসময় তুলে ধরেছেন নেতানিয়াহু। এ ছাড়া সবসময় চলমান সংকটকে নিজের কাজে লাগাতে দেখা গেছে তাঁকে। 

সিরিয়ায় তুরস্ককে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় মৃদু অসন্তোষ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রও। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিরিয়ার দূত টম বারাক বিরল এক বিবৃতি প্রকাশ করে ওই হামলাকে ‘অপ্রয়োজনীয় বাড়াবাড়ি’র তকমা দিয়েছেন। এ ছাড়াও এক পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে বারাক বলেছেন, একটি তত্ত্বের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে– ইসরায়েল তুরস্ককে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। তিনি একে অত্যন্ত আগ্রাসী পদক্ষেপ হিসেবেও অভিহিত করেন।

তবে নেতানিয়াহু ও তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এ ধরনের বয়ান প্রত্যাখ্যানের চেষ্টা চালিয়েছেন। তারা বলছেন, সিরিয়াতে তুরস্কের উপস্থিতি বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়েই তাদের আপত্তি। গত সপ্তাহে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি ও ইসরায়েলের প্রতি হুমকি সহ্য করব না।’

গত শুক্রবার নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে  এরদোয়ানকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী স্বৈরশাসক’ বলে দাবি করা হয়। আরও দাবি করা হয়, এরদোয়ান নিজ জনসাধারণকে শোষণ করছেন। প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহু ও এরদোয়ানের দীর্ঘদিন ধরে বিতণ্ডা চলে আসছে। গাজা, লেবানন ও ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সে বিতণ্ডা আরও বেড়েছে। আঙ্কারার কাছে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করতে চাওয়ার বিষয়টি নিয়েও নেতানিয়াহু আপত্তি জানিয়েছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যম হারেৎজের জ্যেষ্ঠ সুরক্ষা বিশ্লেষক মনে করছেন, তুরস্ক-সিরিয়া আগামীতে ইসরায়েলের জন্য আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে। ফলে এর পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন থাকতে পারে– এমন দাবি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। 

আরও পড়ুন

×