ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা
ভূমিকম্পের মতো প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি ইরানের
ছবি: রয়টার্স
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৩:২৬ | আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৩:৪১
ইরানের অর্থনীতিকে একঘরে করতে ওয়াশিংটন তাদের নতুন পরিকল্পনা উন্মোচন করার পর ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি ও শিপিং খাতে ইরানের বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন। এর জবাবে নতি স্বীকার না করে তেহরান কৌশলগত উপায়ে পাল্টা আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে।
সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরুতে সংকট চলাকালে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। পাশাপাশি লোহিত সাগরে হুতি বিদ্রোহীরাও তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মহসিন রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলতে থাকলে পারস্য উপসাগরের কোনো অংশ থেকেই আর তেল রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। তিনি এটিকে ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ প্রতিশোধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় বিকল্প পথে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছে। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা নিয়ম অমান্যকারী ৪৫টি ট্যাঙ্কারকে চিহ্নিত করেছে এবং নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া তেহরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর বাড়াতে প্রস্তুত। মার্কিন সামরিক বিমান বুলগেরিয়ার মাটি ব্যবহার করায় ইরান ন্যাটোভুক্ত এই ইউরোপীয় দেশটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনে সহায়তা করা যে কোনো দেশকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে বুলগেরিয়ায় আঘাত হানলে যুদ্ধ আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত
দীর্ঘদিন ধরে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ দাবি করলেও সম্প্রতি তাদের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলার পর সে দেশের পার্লামেন্ট পারমাণবিক অসম্প্রসারণ চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার বিল নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম অর্ধ টন অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। দেশটির নেতারা প্রশ্ন তুলছেন– যুক্তরাষ্ট্র যখন সর্বাত্মক যুদ্ধ চালাচ্ছে, তখন ইরান কেন পারমাণবিক শক্তি অর্জনের দিকে এগোবে না?
প্রতিরোধ ও মানিয়ে নেওয়ার নতুন কৌশল
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক চাপ দিয়ে ইরানকে মূল অবস্থান থেকে পিছু হটানো সম্ভব নয়। ওয়াশিংটন ইরানের ওপর যত বেশি অবরোধ চাপাবে, ইরানও ঠিক ততটাই বিশ্ববাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।
বর্তমানে ইরান দুটি কৌশলকে একসঙ্গে নিয়ে এগোচ্ছে। প্রথমত, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার জন্য বিকল্প অর্থনৈতিক উপায় খোঁজা। দ্বিতীয়ত, তেহরানকে নিঃশেষ করার চেষ্টা করা হলে পুরো অঞ্চল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি খাতকেও যে তার কঠিন মূল্য দিতে হবে– সেই বার্তা বজায় রাখা।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ফিরতে কোনো ‘তাড়া নেই’ বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে তিনি কত সময় দিতে চান। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো তাড়া নেই। আমার একেবারেই কোনো সময়সূচি নেই।’
সামরিক অভিযান নাকি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, কোনটি বেশি কার্যকর– এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয়, দুটিই সমানভাবে কাজ করছে।
মতপার্থক্য সত্ত্বেও মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যের আহ্বান ইরানের
মতপার্থক্য থাকলেও বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গত বৃহস্পতিবার রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামিক ঐক্য সম্মেলনে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইরান কোনো দুর্বল অবস্থানে নেই এবং নিজেদের কীভাবে রক্ষা করতে হয়, তা খুব ভালো করেই জানে।’
তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রী
কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নতুন গতি আনতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে তেহরানে বৈঠক করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি। আঞ্চলিক সংঘাত কমানো এবং পারস্পরিক আলোচনার একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে একটি অস্থায়ী জাহাজ চলাচল করিডোর তৈরির প্রস্তাব নিয়েও দুই দেশ আলোচনা করেছে।
- বিষয় :
- যুক্তরাষ্ট্র
- ট্রাম্প
- ইরান
- ভূমিকম্প