ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘পানির স্রোত এত দ্রুত এসেছিল যে- তাদের বাঁচানো যায়নি’

‘পানির স্রোত এত দ্রুত এসেছিল যে- তাদের বাঁচানো যায়নি’
×

ছবি: বিবিসি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৪:১৮

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় পরিবারের একাধিক সদস্যকে হারিয়েছেন যুক্তরাজ্যের এসেক্সে বসবাসকারী নেপালি বংশোদ্ভূত নার্স রাজেন্দ্র পুদাসাইনি। তার পরিবারের কয়েকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে রাজেন্দ্র পুদাসাইনি বলেন, ‘তারা আর নেই। পানির স্রোত এত দ্রুত এসেছিল যে তাদের বাঁচানো যায়নি। তারা স্রোতে ভেসে গেছেন।’

তবে তার মা এবং আড়াই বছর বয়সী এক নাতি-নাতনিকে সেনাবাহিনী জীবিত উদ্ধার করেছে। অন্যদিকে তার স্ত্রীর এক খালা ও খালা-স্বামী, তাদের নাতনি ও নাতনির স্বামী এখনো নিখোঁজ। রাজেন্দ্রের নিজের ধর্মপুত্রেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

পরিবারের সদস্যদের নিখোঁজ হওয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘শহর ও গ্রামগুলো স্রোতে ভেসে গেছে। এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা।’

রাজেন্দ্র পুদাসাইনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক নন-রেসিডেন্ট নেপালি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিও। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাবার, পোশাকসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহে বর্তমানে অর্থ সহায়তা তুলছেন তিনি।

নেপাল-তিব্বতে শত শত মানুষের খোঁজ নেই
বুধবারের আকস্মিক বন্যার পর নেপাল ও তিব্বতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে জোরালো উদ্ধার অভিযান চলছে। বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। নেপালে এখনো ৯০০ জনের বেশি মানুষের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। দেশটিতে অন্তত ৩৮৯ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ড্রোনে ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিওতে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা দেখা গেছে। অনেক এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকারীদের কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিব্বতেও বন্যায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে ৫৫৮ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে নেপাল ও তিব্বতের নিখোঁজের পরিসংখ্যানে একই ব্যক্তির নাম রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

প্রথম তীর্থযাত্রায় গিয়ে নিখোঁজ
বন্যায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী নেপালি ও তাদের স্বজনেরাও রয়েছেন। পূর্ব লন্ডনে বসবাসকারী এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তার বোন প্রথমবারের মতো তীর্থযাত্রায় যাওয়ার জন্য খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন। কিন্তু বন্যার পর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের চলাচল থাকায় বন্যার পর অনেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

হিমবাহ ধসে বন্যার সূত্রপাত
নেপালি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, হিমালয় পর্বতমালার নেপাল অংশে হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসায় সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

উদ্ধারকারীরা এখন ধ্বংসস্তূপ ও বন্যাকবলিত এলাকায় জীবিতদের সন্ধান করছেন। পানির স্রোতে ভেসে যাওয়া মানুষদের খুঁজে বের করতে ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

আরও বন্যার আশঙ্কা
বন্যার ধাক্কা সামলে ওঠার মধ্যেই নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সীমান্তের একটি এলাকায় পানি বাড়তে থাকা একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। যেকোনো সময় সেটির বাঁধ ভেঙে পানি নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এতে সীমান্তবর্তী আরও কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 
সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন

×