‘ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠছিল মাটি, মনে হচ্ছিল বাঁচব না’
ছবি: বিবিসি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:৫২
কাদামিশ্রিত পানির স্রোত যখন চারপাশে ছুটে যাচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল মাটি যেন ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠছে। ঢলের পানিতে পাহাড়ের ঢালগুলোও পানিতে ভরে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন নেপালের ত্রিশুলি গ্রামের বাসিন্দা ৪৩ বছর বয়সী সারাসওয়াইত ঘালে। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল আমরা এই দুর্যোগ থেকে বাঁচতে পারব না।’
সাম্প্রতিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত ত্রিশুলি গ্রামের বাসিন্দারা এখন নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরে আসছেন। কেউ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খুঁজছেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কেউ চেষ্টা করছেন যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তা উদ্ধার করতে। কিন্তু সারাসওয়াইত ঘালের ঘরটি আর নেই।
তিনি জানান, চারপাশের পাহাড়ি ঢাল পানিতে ভরে যাওয়ার পর কাদামিশ্রিত পানির প্রবল স্রোত নিচের দিকে ছুটে আসে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি কোনোভাবে অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় পৌঁছান। সেখান থেকে দেখেন, পানির স্রোতে ঘরের জিনিসপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভেসে যাচ্ছে।
পানি ও কাদার স্তর চারপাশে জমে যাওয়ার পরও সেই ভয়াবহ দৃশ্য তার মনে গেঁথে আছে। দুর্যোগের পর নিজের জীবনের দিকে তাকিয়ে সারাসওয়াইতের মনে হচ্ছে, যেন সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘এখন মনে হয় কোনো পৃথিবীই নেই। কী-ই বা বাকি আছে? মনে হচ্ছে আমি মরে গেছি।’
নিজের হারানো জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমার কিছুই নেই।’

ত্রিশুলি গ্রামের আরেক বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সী রিশিকা কালওয়ারও এই দুর্যোগে নিজের ঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়েছেন। জন্মের পর যে জায়গায় বেড়ে উঠেছেন, সেই জায়গাটি এভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
রিশিকা বলেন, ‘যে জায়গায় আমরা জন্মেছি, যেখানে বড় হয়েছি। আমাদের মা-বাবা অনেক কষ্ট করেছেন, অন্যরাও অনেক কষ্ট করেছেন।’
এই দুর্যোগের ক্ষত সহজে ভুলতে পারবেন না বলেও জানায় কিশোরীটি। তিনি বলেন, ‘মনে হয়না, এই কষ্টের কথা আমি কখনো ভুলতে পারব।’
সূত্র: বিবিসি