গণভোটে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ইইউতে যাচ্ছে না আইসল্যান্ড
ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
দ্য গার্ডিয়ান
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ২১:০০
দেশজুড়ে বিভাজন সৃষ্টিকারী এক প্রচারণার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের বিষয়ে আলোচনা শুরুর সরকারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন আইসল্যান্ডের ভোটাররা। গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, প্রস্তাবের বিপক্ষে অর্থাৎ ‘না’ ভোট পড়েছে ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট এবং পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ।
রোববার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে আইসল্যান্ড সরকার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ফলাফল ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য একটি বড় ধাক্কা। কারণ, নতুন সদস্য হিসেবে আইসল্যান্ডকে স্বাগত জানাতে ইইউ বেশ আগ্রহী ছিল। এক্ষেত্রে অনেক জটিল বিষয়ও ছাড় দিতে প্রস্তুত ছিল ইইউ।
আইসল্যান্ডের বর্তমান সরকার ইইউর সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়টিকে ‘এখন নয়তো কখনোই নয়’ হিসেবে তুলে ধরেছিল। এমনকি দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্তরুন ফ্রোস্তাদোতির ভোটারদের সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘না’ জয়ী হলে ইইউ সম্পর্কিত সব জল্পনা-কল্পনার দীর্ঘমেয়াদী অবসান ঘটবে। তবে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘আরইউভি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণভোটের ফল জাতিকে নতুন করে বিভক্ত করবে না।
প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, আইসল্যান্ডের অনেক মানুষ, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষ, ইইউতে যোগ দিলে কৃষি, মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর কী প্রভাব পড়বে তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন।
প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘কথা দিচ্ছি, আমরা এই বিষয়গুলো দক্ষতার সঙ্গে সামাল দেব। ওইসব উদ্বেগ বিবেচনায় রাখব।’
‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণাকারীদের মতে, ইইউ জোটে যোগ দিলে চড়া সুদহার কমত এবং দেশের নিরাপত্তা জোরদার হতো। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা বলছেন।
অন্যদিকে, ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণাকারীদের দাবি ছিল, ইইউর সদস্য হলে আইসল্যান্ড তার সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্রসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাবে।
২০০৯ সালে আইসল্যান্ড যখন তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ে তখন প্রথম ইইউ সদস্য পদের জন্য আবেদন করে। তবে ২০১৩ সালে দেশটির ইইউ-বিরোধী সরকার সেই আলোচনা স্থগিত করে দেয়। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে একটি গণভোট আয়োজনের কথা বললেও তা প্রত্যাশিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠিত হলো।