মাদক মামলায় টিভি উপস্থাপিকাসহ ১২ জনের ফাঁসির আদেশ
সারাহ খলিফা। ছবি: সংগৃহীত
দ্য গার্ডিয়ান
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:২৮
মাদকদ্রব্য তৈরি ও পাচার সংশ্লিষ্ট মামলায় মিসরের একটি আদালত দেশটির সুপরিচিত এক নারী টেলিভিশন উপস্থাপকসহ ১২ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। শনিবার দেশটির সরকারি গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা ‘মিশন ইম্পসিবল’ নামের অপরাধ ও নিরাপত্তাবিষয়ক একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে মাদক উৎপাদন ও পাচারের উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গড়ে তোলার অভিযোগ আনা হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সারাহ খলিফা।
রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র ‘আল-আহরাম’ জানিয়েছে, খলিফা ও অন্য ১১ আসামি বিদেশ থেকে মাদক তৈরির কাঁচামাল আমদানি করে তা দিয়ে সিন্থেটিক মাদক তৈরি করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব মাদক বিক্রি ও পাচারের জন্য তৈরি করা হতো।
মামলার তদন্তে ৭৫০ কেজির বেশি মাদক ও মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করা হয়। এ ছাড়া দুটি অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়ে সেগুলো মাদক তৈরির গবেষণাগার হিসেবে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আল-আহরাম।
আদালতে সরকারি কৌঁসুলিদের কাছে ২০ জন সাক্ষীর দেওয়া জবানবন্দি উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি কথোপকথন ও ভিডিও ক্লিপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক প্রমাণও আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
গত সেপ্টেম্বরে আদালতে শুনানির সময় বিচারক তার কথিত ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদকবিরোধী কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে মাদকের সঙ্গে ছবি তোলার আগে আমি কখনো কোনো মাদক দেখিনি।
মিশরের আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডের রায় চূড়ান্ত করার আগে দেশটির গ্র্যান্ড মুফতির কাছ থেকে ধর্মীয় মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই প্রক্রিয়া শেষে আদালত ফাঁসির আদেশের রায় চূড়ান্ত করেন। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে। খলিফার আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
এই মামলায় আরও নয়জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাতজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের পৃথক মামলায় খলিফা ও অন্য কয়েকজনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মিশরে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাসবাদ, নির্দিষ্ট কিছু ধর্ষণ এবং মাদক পাচারের মতো অপরাধে ফাঁসির আদেশের বিধান রয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মিশরে ৪৯২টি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয় এবং ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। অন্যদিকে ‘ইজিপশিয়ান কমিশন ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমস’-এর হিসাবে, একই বছরে দেশটিতে ৫৪১টি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
- বিষয় :
- মাদক মামলা
- ফাঁসির আদেশ
- আদালত
- মিসর
- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড