ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নতুন নাম পেল মমতার দল, প্রতীকে জোড়া ফুলের বদলে ফুটবল খেলোয়াড়

নতুন নাম পেল মমতার দল, প্রতীকে জোড়া ফুলের বদলে ফুটবল খেলোয়াড়
×

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক জোড়া ফুল। ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:৩৯

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষের নতুন নাম হয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’। তাদের প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পক্ষের নাম হয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’। তাদের প্রতীক ‘খাম’।

পশ্চিমবঙ্গের দুই বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধের আপাতত ইতি টেনে এই অন্তর্বর্তী নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে দুই গোষ্ঠীর প্রার্থীদের এসব নাম ও প্রতীকেই নির্বাচনে লড়তে হবে। শুক্রবার দুপুরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ সিদ্ধান্ত জানায় কমিশন।

বিধানসভা উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের বিবদমান দুই পক্ষই নতুন দলের নাম ও প্রতীকের জন্য নিজেদের পছন্দের তালিকা শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পক্ষ দলের নাম ও প্রতীকের জন্য তিনটি করে বিকল্প দেয়। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পক্ষও তাদের পছন্দের তালিকা কমিশনে পাঠায়।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের জেরে দলের নাম ও প্রতীকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া দল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-এর নাম এবং ‘ঘাসের ওপর জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে দুই পক্ষই ওই নাম বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।

আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হবে। এসব নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক চেয়ে দুই পক্ষের চারজন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। দুই পক্ষের শুনানি চলমান থাকায় কমিশন এত দিন যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারছিল না। বৃহস্পতিবার রাতে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক স্থগিত করার পর শুক্রবার সকাল ১১টাকে নতুন নাম ও প্রতীক জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে তিনটি নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল-‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতা’ এবং ‘তৃণমূল মমতা কংগ্রেস’। প্রতীকের ক্ষেত্রে চাওয়া হয়েছিল ‘ফুটবল খেলোয়াড় ফুটবল খেলছে’ এবং ‘ক্রিকেট ব্যাট’। শেষ পর্যন্ত কমিশন তাদের ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দিয়েছে।

অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির বিকল্প হিসেবে তিনটি দলের নাম প্রস্তাব করেছিল-‘ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল তৃণমূল কংগ্রেস’ ও ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’। প্রতীকের জন্য তারা চেয়েছিল ‘খাম’, ‘টর্চ’ ও ‘ব্ল্যাকবোর্ড’। শেষ পর্যন্ত তাদের ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়।

দুই পক্ষের কাছ থেকে নতুন নাম ও প্রতীকের আবেদন পাওয়ার পর শুক্রবার দুপুরের দিকে তাদের নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এই ব্যবস্থা আপাতত অন্তর্বর্তী। মূল তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন নাম ও প্রতীকেই দুই গোষ্ঠীকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর দলীয় বিরোধের জেরে প্রথমবার তৃণমূল কংগ্রেসের দুই পক্ষ মূল দলীয় নাম ও প্রতীক ছাড়াই নির্বাচনী মাঠে নামতে যাচ্ছে। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। তখন থেকেই দলের নাম ও ‘ঘাসের ওপর জোড়াফুল’ প্রতীকটি দলটির পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই দলের প্রতীকটি এঁকেছিলেন বলে জানা যায়।

এদিকে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, তাদের পক্ষ এই নির্দেশ মেনে নিচ্ছে না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যা করার প্রয়োজন, তা করা হবে বলেও জানান তিনি। কালীঘাটের তৃণমূল শিবিরের এই নেতার দাবি, উপনির্বাচনের পর তারা চাইলে ঘাসফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারেন।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তার বক্তব্য, এই নির্দেশ প্রমাণ করেছে যে কোনো রাজনৈতিক দলকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে দেখা যায় না এবং বংশানুক্রমে রাজনৈতিক দলের উত্তরাধিকার নির্ধারণ করা যায় না।

১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল দলটি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর দলীয় বিরোধের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন প্রকাশ্যে আসে। এর পরই দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধ নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়ায়।
 

আরও পড়ুন

×