ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যবর্তী নির্বাচন: তিন আসনের পরাজয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে ট্রাম্পের দল

মধ্যবর্তী নির্বাচন: তিন আসনের পরাজয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে ট্রাম্পের দল
×

মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের পক্ষে ওহাইওতে একটি নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

এএফপি

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:২১ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:১৭

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে তার নাম কোনো ব্যালটে থাকবে না। তবে নির্বাচনের ফল তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর এবং হাজার হাজার স্থানীয় পদেও নির্বাচন হবে। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই ভোট হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন।

২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে ২২০টি এবং ডেমোক্র্যাটরা ২১৫টি আসন পেয়েছিল। বর্তমানে রিপাবলিকানদের হাতে ২১৮টি, ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি এবং একজন স্বতন্ত্র সদস্যের আসন রয়েছে। দুটি আসন শূন্য রয়েছে। ফলে রিপাবলিকানরা দুটি আসন হারালেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে। তবে তিনটি আসন হারালে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে।

সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে এবার ৩৫টি আসনে নির্বাচন হবে। এর মধ্যে ৩৩টি নিয়মিত নির্বাচন এবং ফ্লোরিডা ও ওহাইওতে দুটি বিশেষ নির্বাচন রয়েছে। বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি আসন রয়েছে। ৪৭টির মধ্যে দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের নেট চারটি আসন বাড়িয়ে ৫১টিতে পৌঁছাতে হবে। ৫০-৫০ হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভোটে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে।

এবার ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হবে। পাশাপাশি ৮৮টি অঙ্গরাজ্য আইনসভার কক্ষে মোট ৬ হাজার ১৩৯টি আসনেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সেপ্টেম্বরের ১৪ ও ১৫ তারিখে পিবিএস, এনপিআর ও মারিস্টের এক জরিপে ৫৩ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, তারা কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ চান। রিপাবলিকানদের পক্ষে ছিলেন ৪১ শতাংশ। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৩২ শতাংশ রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন।

বিভিন্ন সেপ্টেম্বরের জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন ৩২ থেকে ৪১ শতাংশের মধ্যে ছিল। রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে তাঁর অনুমোদন ৩২ শতাংশ, যা তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ের সর্বনিম্ন। তবে বিভিন্ন জরিপে নমুনা ও পদ্ধতিগত পার্থক্য থাকায় এসব সংখ্যার সরাসরি তুলনা করা যায় না।

এনবিসির এক জরিপে ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ট্রাম্পের নীতিগুলো অর্থনীতির ক্ষতি করেছে। বিপরীতে ২৬ শতাংশ বলেছেন, এসব নীতি অর্থনীতিতে সহায়তা করেছে।

এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মোট ব্যয় ১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।

২০২৬ সালের কংগ্রেস নির্বাচনে প্রাথমিক পর্যায়ে ২ হাজার ৪৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যা অন্তত ২০১৪ সালের পর সর্বোচ্চ। এর মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদের প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ২৩২ জন।

এবার প্রতিনিধি পরিষদের অন্তত ৪৪টি আসনে ২০২৪ সালের নির্বাচনের একই দুই প্রধান দলের প্রার্থী আবার মুখোমুখি হচ্ছেন। অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন যুক্ত করলে এমন পুনরাবৃত্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সংখ্যা আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন

×