ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

গবেষণা

বন্ধু চুরি করলে ছাড় দেয় শিম্পাঞ্জিও

বন্ধু চুরি করলে ছাড় দেয় শিম্পাঞ্জিও
×
×

পাশাপাশি বসে আছে দুই শিম্পাঞ্জি সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

যখন অপরিচিত কেউ স্বার্থপর আচরণ করে, তখন তা ভিন্ন ধরনের অনুভূতির জন্ম দেয়। আবার একই কাজ যদি বন্ধু করে, তাহলে তা মেনে নেওয়া কষ্টকর হয়ে যায়, আবার অনেক ক্ষেত্রে ছেড়েও দেওয়া হয়। মানুষের এই বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে শিম্পাঞ্জির মধ্যেও। দেখা গেছে, বন্ধুরা কোনো কিছু চুরি করলে শিম্পাঞ্জিরা তুলনামূলক নেতিবাচক মনোভাব কম দেখায়, দুর্ব্যবহার কম করে। 

সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে তথ্যগুলো। স্টাডি ফাইন্ডসের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, গবেষকরা উগান্ডায় একদল শিম্পাঞ্জির ওপর এই গবেষণাটি চালান। তাদের গবেষণা এভল্যুশন অ্যান্ড হিউম্যান বিহেভিয়ার সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। 

গবেষণায় প্রতিটি শিম্পাঞ্জিকে খাবার চুরির সহজ সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। তাদের হাতে বিকল্প ছিল– হয় বন্ধুর খাবার চুরি করবে, আর না হয় এমন কারওটা নেবে, যার সঙ্গে প্রাণীটি ঘনিষ্ঠ নয়। শুধু একটি রশি টানার মাধ্যমে এটি করার সুযোগ ছিল তাদের। গবেষকদের মূল প্রশ্নটি ছিল, শিম্পাঞ্জির বন্ধুত্ব খাবার নিজের দখলে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে দমাতে পারে কিনা। 

পরীক্ষা চলাকালে দেখা যায়, কখনও কখনও বন্ধুত্ব জয়ী হচ্ছে। আবার কখনও আকাঙ্ক্ষার কাছে হার মানছে তা। তবে সর্বোপরি চুরির পর যে অনুভূতি দেখিয়েছে শিম্পাঞ্জি, সেটি বন্ধুত্বের মাধ্যমে প্রভাবিত।
পরীক্ষার আগে গবেষকরা কোন কোন শিম্পাঞ্জির মধ্যে বন্ধুত্ব রয়েছে, তা বের করেন। এ কাজে একজন সহায়তাকারী গবেষক ৮০০ ঘণ্টা ব্যয় করেন। তিনি ২৬টি শিম্পাঞ্জিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে সেগুলোর বন্ধুত্বের বিষয়গুলো বের করেন। তিনি মূলত নজরে রেখেছিলেন, সেগুলো একটি আরেকটির কত কাছে বসছে, স্পর্শ করছে কিনা, পাশাপাশি খাচ্ছে কিনা ইত্যাদি। এগুলোর ভিত্তিতে প্রতিটিকে বন্ডিং স্কোর দেওয়া হয় এবং সেই স্কোরের ভিত্তিতে শিম্পাঞ্জিগুলোকে জোড়ায় জোড়ায় ভাগ করা হয়। একবার বন্ধুর সঙ্গে বসানো হয়, আরেকবার বন্ধু নয় এমন শিম্পাঞ্জির সঙ্গে বসানো হয়। এর পর শুরু হয় চুরির পরীক্ষা।

পরীক্ষাটি অনেকটা এমন ছিল, একটি শিম্পাঞ্জিকে আনারসের টুকরো দেওয়া হয় এবং তা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় শিম্পাঞ্জিকে রশি দিয়ে সে খাবার টেনে নিজের কাছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রতিটি শিম্পাঞ্জি দুইবার করে এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যায়। প্রতি পরীক্ষা তিনবার করে করা হয়। প্রতিটি সেশন গবেষকরা ভিডিওতে ধারণ করে রাখেন। শিম্পাঞ্জিদের চিৎকার, রাগ, অঙ্গভঙ্গি– সবই উঠে আসে তাতে। পরীক্ষায় দেখা যায়, যে শিম্পাঞ্জিকে খাবার দেওয়া হয়েছে, সেটি উপস্থিত না থাকলে দ্বিতীয় শিম্পাঞ্জি খাবার নিজের দিকে টেনে নিচ্ছে। আবার খাবার পাওয়া শিম্পাঞ্জি উপস্থিত থাকলে শুধু ৬৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সেটির কাছ থেকে খাবার টেনে নেওয়ার ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। এর মধ্যে বন্ধুর কাছ থেকে খাবার টেনে নেওয়ার ঘটনা ঘটে ৬১ শতাংশ ক্ষেত্রে, আর বন্ধু নয়– এমন শিম্পাঞ্জির বেলায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে খাবার টেনে নেওয়া হয়। 
 

আরও পড়ুন

×