প্রেমে আপত্তি, বাবা-ছেলে ও বন্ধুকে নগ্ন করে হাঁটানো হলো রাস্তায়
কলকাতায় ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪
যুবক, তাঁর বাবা ও বন্ধুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পোশাক খুলতে বাধ্য করা ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা ওই কিশোরীর বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। ছবি-ভিডিও থেকে নেওয়া
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:০৯ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:২০
কলকাতার বেহালায় প্রেমের সম্পর্কে আপত্তি তুলে এক যুবক, তাঁর বাবা ও এক বন্ধুকে মারধর করে নগ্ন অবস্থায় রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ উঠেছে এক কিশোরীর পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা, মা, মামা এবং ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার সকালে ধৃত চারজনের মধ্যে তিনজনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে পুলিশ।
ঘটনাটি দক্ষিণ কলকাতার সরশুনা থানার বসুন্ধরা পার্ক এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কিশোরীর বাবা প্রদীপ সরকার, মা রিঙ্কু সরকার, মামা রাহুল বর্মন ওরফে ভুলু এবং ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা শংকর সাউ।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ অক্টোবর ওই এলাকার এক যুবকের সঙ্গে এক কিশোরীকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় থাকার বিষয়টি জানতে পারে কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা। এ নিয়ে আগে থেকেই আপত্তি ছিল তাঁদের। অভিযোগ, ওই যুবককে আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরে তাঁর বাবা ও এক বন্ধুকে ফোন করে ডেকে আনা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এরপর ওই যুবক, তাঁর বাবা ও বন্ধুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়। তাঁদের সামনে বন্দুক রেখে ছেলেকে হত্যা করা অথবা নগ্ন হয়ে রাস্তায় হাঁটার শর্ত দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে তিনজনকে বাড়ির সামনের রাস্তায় নগ্ন অবস্থায় হাঁটানো হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোরীর বাড়ির আশপাশে জড়ো হন। এ সময় বাড়িটিতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় বাসিন্দারা কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল (গোয়েন্দা) কুণাল আগরওয়াল জানান, এ ঘটনায় একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ এবং কয়েকজনের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনকে আলিপুর আদালতে হাজির করা হলে তাঁদের পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। পরে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার অভিযোগে শংকর সাউকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার সকালে প্রদীপ সরকার, রাহুল বর্মন ও শংকর সাউকে নিয়ে ঘটনাস্থলে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে পুলিশ।