ইউক্রেনের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
পোল্যান্ডে অবস্থিত একটি সেনা ঘাঁটিতে ‘প্যাট্রিয়ট’ সিস্টেমের সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল লঞ্চার। ফাইল ছবি: রয়টার্স
রয়টার্স
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:৩২
ইউক্রেনের কাছে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ অনুমোদনের কথা জানায়। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের আনুমানিক মূল্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউক্রেনকে আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তবে অনুমোদন পেলেও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দ্রুত হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া সাধারণত কয়েক বছর সময় নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত দুজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, অনুমোদন পাওয়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখনো উৎপাদিত হয়নি। ২০৩০-এর দশকের শুরুর কয়েক বছর আগে সেগুলো সরবরাহের সম্ভাবনা কম।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সরবরাহের সময় এগিয়ে আনতে পেন্টাগনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত থেকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে পরে নতুন উৎপাদিত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একজন।
রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে আরও বেশি ইন্টারসেপ্টর বা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে আসছে। বিশেষ করে দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা সবচেয়ে কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।
ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে বিলম্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউক্রেনের উত্তেজনাও বেড়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে একটি ডিজেল চুক্তির ঘোষণা দেন। পাশাপাশি রুশ তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের অনীহার কারণে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করেন।
সোমবার জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করলেও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অনুমোদনের জন্য প্রায় এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অপেক্ষায় রয়েছে ইউক্রেন।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরের একটি জনাকীর্ণ রেল প্ল্যাটফর্মে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হন। একই দিনে দুটি প্রাদেশিক শহরে হামলায় আরও পাঁচজন এবং সন্ধ্যায় রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত হন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের অনুদানের অর্থে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মূল্য পরিশোধ করবে ইউক্রেন। ইউএস জাম্পস্টার্ট কর্মসূচির মাধ্যমে এ অর্থ ব্যবস্থাপনা করা হবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউক্রেন সাপোর্ট লোন থেকে পাওয়া অর্থও ব্যবহার করা হবে। এ বিক্রিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থায়ন থাকছে না।
পেন্টাগনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, জাম্পস্টার্ট কর্মসূচির আওতায় মিত্র দেশগুলোর অনুদান দিয়ে ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র, বিভিন্ন পরিষেবা ও প্রশিক্ষণ কেনা হয়। রাশিয়ার আগ্রাসনের মুখে দেশটির আত্মরক্ষায় সহায়তা করাই এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য।
এর আগে গত আগস্টে এ কর্মসূচির আওতায় ৮২৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৩ হাজার ৩৫০টি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হয়েছিল। জোন ৫ টেকনোলজিস ও কোঅ্যাসপায়ার নামের দুটি কোম্পানি এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে। প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর বিক্রির ক্ষেত্রে প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন।
যুক্তরাষ্ট্র একদিকে মিত্র দেশগুলোকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করছে, অন্যদিকে নিজেদের সামরিক অভিযানেও গোলাবারুদ ব্যবহার করছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত জুলাইয়ে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য লকহিড মার্টিনকে সর্বোচ্চ ৫৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের কার্যাদেশ দেয় মার্কিন সেনাবাহিনী। লকহিড জানিয়েছে, এ চুক্তির ফলে ২০৩০ সালের শেষ নাগাদ পিএসি-৩ এমএসই ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা তিন গুণ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া আরকানসাসের ক্যামডেন কারখানায় কর্মীর সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮৫০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি বছরে ২ হাজার প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথা জানিয়েছিল।
এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ দিচ্ছে পেন্টাগন। এ প্রচেষ্টার কেন্দ্রে রয়েছে চলতি বছরের শুরুর দিকে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক উৎপাদন চুক্তিগুলো।