জিনজিয়াংয়ে ‘জবরদস্তি শ্রমে’ তৈরি পণ্য কিনবে না এইচঅ্যান্ডএম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২০ | ০০:৫৪ | আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০২০ | ০২:১৪
জিনজিয়াং প্রদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর এখন চীনের রফতানি নেতৃত্বাধীন অর্থনীতিকে আঘাত করতে শুরু করেছে। প্রদেশটির বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের ‘জোর করে কাজ’ করতে বাধ্য করায় সুইডেনের বিখ্যাত ফ্যাশন হাউস এইচঅ্যান্ডএম জিনজিয়াং থেকে কাঁচামাল না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার এইচঅ্যান্ডএম জানিয়েছে, তারা জিনজিয়াংয়ে আর তুলা উৎপাদন করবে না। প্রদেশটির কোনো পোশাক কারখানার সঙ্গেও তারা কাজ করবে না বলে জানিয়েছে।
ফ্যাশন হাউসটির কর্তৃপক্ষ বলেছে, চীনে আমরা যেসব কারখানায় উৎপাদন কাজ করি সেখানে তদন্ত করে জানা গেছে, তারা শ্রমিকদের প্রাপ্য দেয় না। সেখানে জোর করে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। খবর ফিন্যান্সিয়াল পোস্টের
চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে প্রায় ১ কোটি উইঘুর মুসলিমের বাস। দেশটির একেবারে পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত সবচেয়ে বড় প্রদেশ জিনজিয়াং। কাগজে কলমে এটি স্বায়ত্তশাসিত হলেও, চীনের কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ জানিয়েছে, জিনজিয়াংয়ে প্রায় ১০ লাখ উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনকে ক্যাম্পে আটক রেখে নির্যাতন চালাচ্ছে চীন সরকার।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, ‘শিক্ষা শিবির’ নামক ক্যাম্পে উইঘুরদের আটকে রেখে তাদের চীনা ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানো হচ্ছে। কমিউনিস্ট পার্টির প্রশংসার কথা বলা এবং তাদের সঠিক আচরণ পরিচালনার নিয়মগুলো কঠোরভাবে মনে রাখতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সমালোচনা করতে অথবা সেই ধর্ম পরিত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ অভ্যাসগুলোর অংশ হিসেবে চীন সরকার সাংঘর্ষিকভাবে জিনজিয়াংয়ের উইঘুর সংস্কৃতি ও জাতিগত সত্তাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।
এছাড়া তাদের জোর করে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
এইচঅ্যান্ডএম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এইচঅ্যান্ডএম ঘোষণা করেছে, জিনজিয়াংয়ে জোর করে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে এমন সংস্থাগুলির সঙ্গে তারা বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।
মার্কিন প্রশাসন জিনজিয়াংয়ের পাশাপাশি এর পার্শ্ববর্তী আনহুই প্রদেশে পাঁচটি কারখানার দিকে নজর রেখেছে যারা সুতি, পোশাক, চুলের পণ্য এবং ইলেক্ট্রনিক্সসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরির সঙ্গে জড়িত।
‘লপ কাউন্টি নাম্বার ফোর ভোকেশনাল স্কিল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’ নামে জিনজিয়াংয়ের প্রতিষ্ঠানটির খোঁজখবর নিয়েছে মার্কিন মানবাধিকার কয়েকটি গ্রুপ। তারা জানিয়েছে, তথাকথিত ট্রেনিং সেন্টারগুলো বন্দিশিবির হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইউরোপের বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানও চীন সরকারের মানবাধিকার রেকর্ড খতিয়ে দেখছে। জিনজিয়াংয়ে চীন সরকারের মানবাধিকার রেকর্ডের বিষয়ে নোটিশ দেওয়ার সময় এইচঅ্যান্ডএম অন্যান্য ইউরোপীয় কর্পোরেট সংস্থার সঙ্গে যোগ দিয়েছে। তারা বেইজিংকে বলেছে, জিনজিয়াংয়ে জাতিগত যে যুদ্ধ চলছে তা স্পষ্ট। বিষয়টি তারা আর এড়িয়ে যেতে পারছেন না।
