করোনা নির্মূলের পথে যাত্রা
ইলিয়াস হোসেন
প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৫:২৪
সুড়ঙ্গের প্রান্তে অবশেষে আলোর দেখা মিলেছে। বিশ্বকে লণ্ডভণ্ড করে দেওয়া করোনাভাইরাসের বিদায়ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। এক বছর ধরে বিশ্ব সর্বশক্তি দিয়ে অদৃশ্য ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়াই করে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেও এবার আশার প্রদীপ জ্বেলেছে বহুল প্রত্যাশিত টিকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকার মাধ্যমেই পরাস্ত হবে মহাশক্তিধর এই ভাইরাস। গতকাল শনিবার সেই শুভসূচনা করেছে রাশিয়া। এদিন থেকে দেশটিতে গণ-টিকাদান শুরু হয়েছে।
নজিরবিহীন দ্রুততার সঙ্গে টিকা আবিস্কার করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কয়েকজন বিজ্ঞানী আর কয়েকটি ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি। এরপর বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জনসাধারণের ওপর টিকা প্রয়োগের অনুমোদন দিয়ে আশা জাগায় যুক্তরাজ্য। তবে সেখানে টিকাদান শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার। টিকাদান শুরুর মাধ্যমে করোনাভাইরাস নির্মূলের পথে ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এ ভাইরাসটি এখনই চলে যাচ্ছে না। আত্মতৃপ্তিতে ভোগার মতো অবস্থা এখনও হয়নি। এমনকি বাড়বাড়ন্ত সংক্রমণ ও মৃত্যু কিছুটা কমতেও বেশ সময় লেগে যাবে। তাই এই মহামারির বিরুদ্ধে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব আগে করোনার মতো কোনো মহামারির মুখোমুখি হয়নি। তেমনি এর টিকাদান কর্মযজ্ঞও হবে অভূতপূর্ব ব্যাপার। বিশ্বের ৭৮০ কোটির বেশি মানুষের প্রায় সবারই করোনার টিকা প্রয়োজন। বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে টিকা দিতে চার বছর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। অন্তত আগামী বছরের প্রায় পুরোটাই লেগে যাবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের টিকা পেতে। তবে সুসংবাদ হলো, টিকার কারণে মাস দুয়েকের মধ্যেই করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুতে বলার মতো অগ্রগতি হবে।
প্রায় এক বছর আগে চীনের উহানে নভেল করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্ব প্রতিদিনই বহু মানুষকে হারিয়েছে। এখন তো প্রতিদিন ১২ হাজারের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে এ মহামারিতে। সংক্রমণ বাড়তে বাড়তে দৈনিক তা প্রায় সাত লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে। গতকাল পর্যন্ত বিশ্বে ছয় কোটি ৬৩ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং সোয়া ১৫ লাখের বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে কভিড-১৯-এ।
এ মহামারি ঠেকানোর জন্য শেষ ভরসা ছিল টিকা। কয়েক মাস ধরেই টিকা তৈরির জন্য কোমর বেঁধে নেমেছিলেন বিজ্ঞানীরা। প্রায় ২০০টি কোম্পানি টিকা তৈরির কাজে নেমেছে। এর মধ্যে ৫১টি টিকা বর্তমানে মানবদেহের ওপর পরীক্ষা করা হচ্ছে। আর চূড়ান্ত ধাপে আছে ১৩টি। টিকা তৈরিতে অনেক সময় বছরের পর বছর লেগে গেলেও এবার মাত্র ১০ মাসের মধ্যে কার্যকর টিকা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে তিনটি টিকা নিয়ে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়। এর একটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত। অপর দুটি হলো ফাইজার ও বায়োএনটেক এবং মডার্নার। এ ছাড়া চীন ও রাশিয়ার টিকাও কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার গত বুধবার ফাইজারের টিকার অনুমোদন দিয়ে আশার সঞ্চার করে। এরপর গতকাল বাহরাইনও এ টিকা প্রয়োগের অনুমোদন দেয়। যুক্তরাজ্যে ইতোমধ্যেই ফাইজারের আট লাখ টিকা পৌঁছে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কয়েকটি দেশে টিকা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
শেষের শুরু: বায়োএনটেকের টিকা যুক্তরাজ্যে অনুমোদন পাওয়ার পর কোম্পানির প্রধান নির্বাহী উগুর শাহিন এক সাক্ষাৎকারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন, 'আমরা বিশ্বাস করি পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ করা গেলে এ মহামারির শেষ হওয়া সত্যিই শুরু হলো। আরও অনেক দেশে এর অনুমোদন দেওয়া প্রয়োজন। তবে এটা শুভসূচনা।'
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেছেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তবে নিজে থেকে মহামারি থামিয়ে দেবে না। তবে আশার কথাও শুনিয়েছেন গেব্রিয়াসুস। তিনি বলেছেন, এখন মহামারি অবসানের স্বপ্ন দেখা যেতেই পারে।
টিকায় আশাবাদ কেন: আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের মহত্তম আবিস্কারে একটি হচ্ছে টিকা। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, টিকাদানের কারণে বিশ্বে ২০ থেকে ৩০ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা পায়। ২০টি মতো জীবন বিপন্নকারী রোগ থেকে জীবন বাঁচায় টিকা। এক সময় শিশুকালের অন্ধত্ব ছিল খুবই ব্যাপক। টিকা সেটাকে প্রায় নির্মূল করেছে। গুটিবসন্ত এক সময় লাখ লাখ লোকের জীবন কেড়ে নিলেও তা এখন পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে টিকার বদৌলতে। এ তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন করোনার টিকা। টিকার মাধ্যমে রোগ নির্মূলে আগে বছরের পর বছর লেগেছে। কিন্তু বিশ্ববাসী চায় টিকার মাধ্যমে রাতারাতি করোনা নির্মূল করতে।
কতটা কার্যকর করোনার টিকা: এখন পর্যন্ত যেসব টিকা চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে বা পাওয়ার অপেক্ষায় আছে, সেগুলোর কার্যকারিতা ৯০ শতাংশের ওপরে। তার মানে হচ্ছে ১০ জন লোক টিকা নিলে নয়জনই করোনা থেকে সুরক্ষা পাবেন। তবে মনে রাখতে হবে, কোনো টিকাই শতভাগ সুরক্ষা দেয় না। যেমন হামের টিকাও ৯৫% থেকে ৯৮% পর্যন্ত কার্যকর।
জীবন কবে স্বাভাবিক হবে: অনেকেই করোনা টিকার জন্য মরিয়া হয়ে প্রতীক্ষা করছেন। করোনা টিকা আসার ফলে অনেকেই আশাবাদী হয়ে উঠেছেন, তাদের জীবন বুঝি আবার স্বাভাবিক হতে চলেছে। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছেন, খুব শিগগিরই জীবন স্বাভাবিক হচ্ছে না। যেমন যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে কার্যকর টিকা মঙ্গলবার থেকে প্রয়োগ শুরু হলেও আগামী বসন্তের আগে সেখানে জীবন স্বাভাবিক হচ্ছে না বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা (এইএইচএস) বলেছে, দেশটির সবচেয়ে বিপন্ন জনগোষ্ঠীকে টিকা দিতে এপ্রিল পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। ডব্লিউএইচওর আধানমও বলেছেন, করোনা রোধের জন্য আমাদের হাতে যেসব উপায়-উপকরণ রয়েছে তার একটি হবে টিকা। মানে এটি হবে সহায়ক শক্তি। কিন্তু শুধু টিকায় করোনা নির্মূল হবে না।
বিশ্বের ৭৮০ কোটির বেশি মানুষকে টিকাদান এক দুরূহ কাজ। ফলে করোনার ঝুঁকি থেকেই যাবে। কারণ শতভাগ মানুষকে টিকা দিলেও কিছুটা হলেও ঝুঁকি থেকেই যাবে। বাস্তবে শতভাগ মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভবও নয়। যেমন ক্যান্সার রোগীদের টিকা দেওয়া নাও যেতে পারে। তবে যত লোককে টিকা দেওয়া যাবে, ঝুঁকিও ততই কমবে। কারণ তাতে জীবাণুর চক্রটি ভেঙে যায়। এটাকেই বলে হার্ড ইমিউনিটি। প্রবীণ ও বিপন্ন জনগোষ্ঠীকে টিকা দিলে অন্যদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি কমে আসে।
ডব্লিউএইচও বলছে, সংক্রমণ চক্র ভেঙে দেওয়ার জন্য জনগণের ৬৫% থেকে ৭০% লোককে টিকা দিতে হবে। এটা সম্ভব হলে মোটামুটি সবাই নিরাপদ হবে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের রোগতত্ত্ববিদ অধ্যাপক আজরা গনি বিবিসিকে বলেছেন, নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছাতে হলে ৭০% মানুষকে টিকা দিতে হবে। এটা সম্ভব হলে জীবন স্বাভাবিক হবে। তিনি বলেছেন, বিশ্ব আবার স্বাভাবিক হতে অন্তত আরও দুই বছর লাগবে। তবে ধনী দেশগুলোর জীবনযাত্রা দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
টিকার দখল ধনী দেশের হাতে: ধনী-দরিদ্রের চিরায়ত বৈষম্য করোনার টিকায়ও প্রবলভাবে দৃশ্যমান হবে। যেমন টিকা পেতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল যুক্তরাজ্য। বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকার টিকা কেনার আগাম চুক্তি করেছে। তার ফলে যুক্তরাজ্যের ছয় কোটি ৮০ লাখ লোকের প্রত্যেকের জন্য পাঁচ ডোজ টিকা নিশ্চিত করেছে সরকার। শুধু ফাইজারের টিকাই চার কোটি ডোজ কিনবে যুক্তরাজ্য সরকার। ফাইজার যে দেশের কোম্পানি, সেই জার্মানির আগেই তারা চুক্তি করে টিকা পাওয়া নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাজ্য।
ন্যাচার সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে বিভিন্ন কোম্পানি যত করোনার টিকা তৈরি হবে, তার প্রায় অর্ধেকই আগাম কিনে রেখেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্য পাঁচটি দেশ। আবার কানাডা সরকার প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আট ডোজ টিকা আগাম কিনে রেখেছে।
ডারহামের ডিউক গ্লোবাল হেলথ ইনোভেশনের এক হিসাবে বলা হয়েছে, দরিদ্র দেশে অনেক নাগরিককে টিকার জন্য ২০২৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ সংকট নিরসনের জন্য ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বে ১৫০টি উন্নয়নশীল দেশ টিকার সমতাভিত্তিক বণ্টনের জন্য কোভ্যাক্স নামের জোট করেছে। আগামী বছরের মধ্যে ২০০ কোটি ডোজ টিকার ন্যায্য বণ্টন চায় এ জোট।
তবে তাতেও আশাবাদী হতে পারছেন না অনেকে। তাদেরই একজন প্যাসিফিকের দ্বীপরাষ্ট্র পালাওয়ের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সুরাঙ্গেল হুইপস। তিনি বলেছেন, 'ফাইজারের টিকা সম্ভবত আমাদের জন্য নয়।'
ডব্লিউএইচওর টিকাদান কর্মসূচির প্রধান ক্যাথেরিন ও'ব্রিয়েন গত নভেম্বরেই হতাশার সুরে বলেছেন, করোনার কার্যকর টিকা আবিস্কার মাউন্ট এভারেস্টে বেস ক্যাম্প তৈরির মতো ব্যাপার। টিকা সরবরাহ করতে হলে ওই বেস ক্যাম্পে পৌঁছাতে হবে।
পাড়ি দিতে হবে দীর্ঘ পথ: মনে রাখতে হবে, বিশ্ব কখনও এমন স্বাস্থ্য সংকটে পড়েনি। এত মানুষকে টিকাদানের কথাও ভাবেনি কেউ। ফলে নেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। টিকা তৈরি করে জনগণের নাগালে পৌঁছানোও এলাহি কাণ্ড। যেমন ফাইজারের টিকা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার অনেকে দেশেই এ সুবিধা অপ্রতুল। তবে টিকাদান শুরু হলেই কভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়বে।
রাশিয়ায় টিকা দেওয়া শুরু: রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কয়েকটি ক্লিনিকে কভিড-১৯-এর টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। নিজেদের আবিস্কার 'স্পুটনিক-ভি' টিকা দিয়েই দেশটি তাদের টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু করেছে। যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, প্রথমে তাদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। গত আগস্টে বিশ্বের প্রথম দেশে হিসেবে রাশিয়া তাদের কভিড টিকা জনসাধারণের মধ্যে ব্যবহারের অনুমতি দেয়। স্পুটনিক-ভির আবিস্কাকরদের দাবি, এই টিকা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে মানবদেহে অ্যান্টিবডি তৈরিতে ৯৫ শতাংশ কার্যকর এবং গুরুতর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।
তবে রাশিয়া টিকার কত ডোজ উৎপাদন করতে পেরেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উৎপাদকরা এর আগে বলেছিলেন, এ বছরের শেষ নাগাদ তারা ৪০ লাখ ডোজ টিকা উৎপাদন করতে সক্ষম হবেন। প্রথমে শিক্ষক, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী ও সমাজকর্মীদের টিকা দেওয়া হবে। মস্কোর ৭০টি স্থানে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
বাহরাইনেও ফাইজারের টিকার জরুরি অনুমোদন: বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ফাইজার ও বায়োএনটেকের টিকার জরুরি অনুমোদন দিল মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষুদ্র দেশ বাহরাইন। শুক্রবার দেশটির পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বাহরাইনের ন্যাশনাল হেলথ রেগুলেটরি অথরিটি সব তথ্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ এবং পর্যালোচনা অনুসরণ করে টিকাটির অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়। বাহরাইন কত টিকা কিনছে সে তথ্য প্রকাশ করেনি। দেশটি কবে থেকে টিকাদান কর্মসূচি চালু করবে, তাও জানানো হয়নি।
বিশ্ব এখন মহামারি শেষ হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে- আধানম: ডব্লিউএইচওর প্রধান আধানম বলেন, 'আমাদের কাছে করোনা মোকাবিলার যেসব সরঞ্জাম রয়েছে, টিকা তার পরিপূরক হতে পারে, প্রতিস্থাপক নয়।' টিকা নিজ থেকে কখনও মহামারির সমাপ্তি ঘটাবে না বলেই মনে করছেন আধানম। ফাইজার ও বায়োএনটেক এবং মডার্না আলাদাভাবে করোনাভাইরাসের দুটি টিকার কার্যকারিতার বিষয়ে প্রাথমিক বিশ্নেষণের ফল ঘোষণার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
টিকার খবরে আশার বাণী শুনিয়ে তিনি বলেছেন, 'করোনা মহামারি শেষ হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করতে পারে বিশ্ব।' আধানম বলেছেন, প্রথম দিকে করোনার টিকা স্বাস্থ্যকর্মী, বয়স্ক ব্যক্তি ও করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ওপর প্রয়োগ করা হবে। আশা করা হচ্ছে, এর ফলে মৃতের সংখ্যা কমে আসবে। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে করোনা মোকাবিলায় সাহায্য করবে টিকা।
আধানম হুঁশিয়ার করেছেন, টিকা দেওয়া শুরু হলেও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার অনেক সুযোগ থেকে যাবে। তাই নজরদারি জারি রাখতে হবে। করোনা পরীক্ষা ও আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে থাকতে হবে। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়তি যত্ন নিতে হবে। সূত্র :বিবিসি, ওয়াশিংটন পোস্ট, এএফপি ও রয়টার্স।