ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অমর্ত্য সেনের বাড়ির জায়গা নিয়ে বিতর্ক, প্রতিবাদ বিশিষ্টজনদের

অমর্ত্য সেনের বাড়ির জায়গা নিয়ে বিতর্ক, প্রতিবাদ বিশিষ্টজনদের
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ | ১০:১৮

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের শান্তিনিকেতনের 'প্রতীচী' বসতবাড়ির জায়গা নিয়ে বিতর্কের প্রতিবাদে রোববার কলকাতার বিশিষ্টজনেরা সভা ও মিছিল করেছেন। 

রোববার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমির সামনে একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানান তারা। পশ্চিমবঙ্গের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তি মন্ত্রী এবং নাট্যকার ব্রাত্য বসুর আহ্বানে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। গায়ক কবীর সুমন থেকে কবি জয় গোস্বামী, সুবোধ সরকাররা ও চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরীর মতো বিশিষ্টজনরা প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন। খবর আনন্দবাজারের

বিজেপি নেতাদের একাংশ অমর্ত্য সম্পর্কে প্রকাশ্যে তির্যক মন্তব্য করছিলেন। সম্প্রতি শান্তিনিকেতনে তার বাড়ি ‘প্রতীচী’ সংলগ্ন জমির একাংশ বিশ্বভারতীর বলেও দাবি করেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অমর্ত্যকে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি অসম্মান করছে বলে অভিযোগ তোলেন।

মুখ্যমন্ত্রীর সুরেই এ দিন বিশিষ্টজনেরা কেন্দ্রের শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, অমর্ত্য সেনকে কেন অসম্মান করা হচ্ছে, বুঝতে পারছি না? টুকরো টুকরো গ্যাং বলা হচ্ছে বাংলার বুদ্ধিজীবীদের। কিছু না পড়ে রাজনীতি করতে চলে আসছেন ওরা। বিজেপির রাজনীতির বিরোধী বলেই অমর্ত্য সেনকে এভাবে অসম্মান করা হচ্ছে। তাকে কি ভিটে থেকে উৎখাত করতে চাইছেন? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। আমার বিষয়টিকে সমর্থন জানিয়ে সরব হয়েছি।

অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিবাদ সভায় এসেছিলেন গায়ক কবীর সুমন। তিনি বলেন, যেটা ঘটছে, তা রাজনৈতিক বিষয়। সমর্থন করি না। আমার উদ্দেশ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেতানো। আপনারা কী আশা করেছিলেন, ওরা কী ভাল ভাল কথা বলবেন? মমতা একা যা কাজ করেছেন, তা ভাবা যায় না। মানুষ দুই টাকায় চাল পেয়েছেন।

একই ঝাঁঝ ধরা পড়ে কবি জয় গোস্বামীর বক্তব্যেও। তিনি বলেন, বিশ্বভারতী রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কারকে রক্ষা করতে পারেনি। দোষীদের শাস্তি দেওয়া গেল না। রবীন্দ্রনাথের মতো, আরেকজন নোবেল সম্মানপ্রাপক অমর্ত্য সেনকেও সম্মান দিতে পারছে না।

শুধু বিশিষ্টজনরা নয়, প্রতিবাদ সভায় হাজির হয়েছিলেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীরাও। চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন বলেন, বাংলার সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এ এক ভয়ঙ্কর সময়। যারা রবীন্দ্রনাথকে বোঝেন না, অমর্ত্য সেনের মতো মানুষদের অপমানিত করেন, তারা বাংলার কিছু জানেন না। সে কারণেই আমরা পথে নেমেছি।

তবে বুদ্ধিজীবীদের এই প্রতিবাদ প্রসঙ্গে রাজ্যের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া, অমর্ত্য সেন নয়, তৃণমূল বাঁচাও অভিযান শুরু হচ্ছে। যখন তৃণমূল ঝামেলায় পড়ে শিল্পীদের আঁকড়ে ধরে। আমি বলব যে জাহাজটা ডুবে যাচ্ছে শিল্পীরা যেন তাতে না যান, তা হলে তাদেরকেও ডুবতে হবে। কারণ একবার সিপিএমের সঙ্গে ডুবেছেন। কোনও মতে ডাঙায় এসে উঠেছেন দিদির আঁচলতলে। ওই ভুল যেন তারা ফের না করেন। তৃণমূল ডুবন্ত জাহাজ, মানুষ তাকে ছেড়ে দিয়েছে। তাদের বাঁচানোর দায়িত্ব কে দিয়েছে আপনাদের?

আরও পড়ুন

×