উইঘুর বন্দিদের অঙ্গ বিক্রি হচ্ছে চোরাবাজারে: হেরাল্ড সান
জিনজিয়াংয়ে উইঘুরদের একটি ক্যাম্প-রয়টার্স
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২১ | ০২:১৬ | আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২১ | ০২:৩৫
চোরাবাজারে ভালো মানের লিভারের দাম পড়বে প্রায় দেড় লাখ ডলার। ভালো মানের কিডনি অবশ্য তার কিছুটা কমেই পাওয়া যাবে। আন্তর্জাতিক চোরাবাজারে বিক্রি হওয়া ওইসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের বন্দিশিবিরে আটক উইঘুর মুসলিমদের বলে অভিযোগ উঠেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদপত্র হেরাল্ড সানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, উইঘুর মুসলিমদের পাশাপাশি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী তিব্বতি এবং ফালুন গং গোষ্ঠীর বন্দিদের থেকেও জোর করে অঙ্গ সংগ্রহ করা হচ্ছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একদলীয় শাসনাধীন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সরকার বেআইনিভাবে বছরে অন্তত ১০০ কোটি ডলারের অঙ্গপ্রত্যক্ষের ব্যবসা চালাচ্ছে।
চলতি বছরের জুনে কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা চীন সরকারদের বিরুদ্ধে উইঘুর, তিব্বতি এবং ফালুন গং বন্দিদের অঙ্গ কেটে বিক্রির অভিযোগ তুলেছিল। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বিষয়টি নিয়ে সেসময় উদ্বেগ প্রকাশ করে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করে আসছে, জিনজিয়াংয়ে প্রায় ১০ লাখ উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনকে ক্যাম্পে আটক রেখে নির্যাতন চালাচ্ছে চীন সরকার।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, প্রদেশটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে এবং গণহত্যার মত অপরাধ সেখানে সংঘটিত হচ্ছে।
তারা বলছেন, ‘শিক্ষা শিবির’ নামক ক্যাম্পে উইঘুরদের আটকে রেখে তাদের চীনা ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানো হচ্ছে। কমিউনিস্ট পার্টির প্রশংসার কথা বলা এবং তাদের সঠিক আচরণ পরিচালনার নিয়মগুলো কঠোরভাবে মনে রাখতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সমালোচনা করতে অথবা সেই ধর্ম পরিত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ অভ্যাসগুলোর অংশ হিসেবে চীন সরকার সাংঘর্ষিকভাবে জিনজিয়াংয়ের উইঘুর সংস্কৃতি ও জাতিগত সত্তাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।
তবে চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সংখ্যালঘুদের ক্যাম্পে রেখে ‘বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ’ দেওয়া হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ক্যাম্পে আটক উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনকে তাদের সম্মতি ছাড়াই রক্ত পরীক্ষা এবং আল্ট্রাসাউন্ড এবং এক্স-রের মত পরীক্ষা করানো হতে পারে। পরীক্ষার ফলাফল থেকে মানব অঙ্গপ্রত্যক্ষের একটি ডাটাবেস তৈরি করা হয়, যা পরবর্তীতে অঙ্গ বিক্রিতে সুবিধা দেয়৷
উইঘুর এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের কাছ থেকে জোর করে অঙ্গ সংগ্রহ এবং জীবাণুমুক্তকরণসহ পদ্ধতিগুলি সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দিয়েছে দ্য হেরাল্ড সান নামের একটি পত্রিকা। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে হাসপাতালগুলো অঙ্গ প্রতিস্থাপনের কাজ করে উইঘুরদের ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে সেগুলোর দূরত্ব খুব বেশি নয়।
- বিষয় :
- জিনজিয়াং
- উইঘুর
- চীন
- অঙ্গ বিক্রি
