ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় বাড়ে, মান বাড়ে না

স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় বাড়ে, মান বাড়ে না
×

মো. দ্বীন ইসলাম

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

কয়েক বছর আগেও একজন রোগী যেখানে ৫০০ টাকায় চিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ পেতে পারতেন, এখন তা হাজার টাকার কমে সম্ভব নয়। সময়ের সঙ্গে জীবনযাপনের ব্যয় বেড়েছে, এ কথা সত্য। কিন্তু এই বাড়তি ব্যয় যখন অসহায় রোগীদের ক্ষেত্রে জোরালোভাবে প্রযোজ্য হয়, তখন অসম অধিকারের প্রশ্নটি স্বাভাবিকভাবেই প্রকট হয়ে ওঠে। 
চিকিৎসকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ফি প্রদানের বিনিময়ে উপযুক্ত চিকিৎসাসেবা পাওয়া একজন রোগীর ন্যায্য অধিকার। এই অধিকার লঙ্ঘন করা একজন রোগীর ন্যায্য অধিকার হরণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। কিন্তু বর্তমানে তাই ঘটে চলেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, চিকিৎসকের ফি বাড়লেও রোগীর গুণগত সেবা পাওয়া আগের চেয়ে কমেছে। 

প্রযুক্তির ব্যবহারে আধুনিক যুগে চিকিৎসাসেবায় অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে। চিকিৎসাসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে কম সময়ে অধিক সংখ্যক রোগীকে নির্ভুলভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। বৈশ্বিক মহামারি এবং জটিল রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও উপযুক্ত চিকিৎসাসেবা দেওয়া এখন আর কোনো চ্যালেঞ্জের বিষয় নয়। চিকিৎসাসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে রোগীর ভোগান্তি লাঘব হয়েছে এবং গুণগত চিকিৎসাসেবা পাওয়া সহজ হয়েছে। 

বাড়তি ব্যয়ে ভোগান্তিবিহীন ও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়া একজন রোগীর ন্যায্য অধিকার। কিন্তু আমাদের দেশে এর সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। বাড়তি ব্যয় বহন করেও নিম্নমানের চিকিৎসাসেবা পাওয়া আমাদের দেশে একটি উদ্বেগের বিষয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সঠিক সময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা লাভের অপরিসীম ভোগান্তি। চিকিৎসকের ঘাটতি, চিকিৎসা-সরঞ্জামের অভাব এবং রোগীর প্রতি চিকিৎসকের অপর্যাপ্ত সময় ব্যয় এই ভোগান্তিকে আরও তীব্র করেছে। 

প্রায়ই শোনা যায়, চিকিৎসকের অবহেলা অথবা চিকিৎসা-সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে রোগীর মৃত্যু ঘটেছে। নাগরিকদের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে একজন চিকিৎসক একজন রোগীর রোগ মূল্যায়নে আগের চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ কম সময় ব্যয় করেন। গবেষণায় এটিও দেখা গেছে, রোগীর প্রতি চিকিৎসকের অপর্যাপ্ত সময় ব্যয়ের ফলে রোগ নির্ণয়ে নির্ভুলতা হ্রাস পেয়েছে এবং রোগীর দুর্ভোগ বেড়েছে। 
দেশের চিকিৎসা খাতের অব্যবস্থাপনায় আরও কিছু দিক লক্ষণীয়। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের স্বেচ্ছাচারী আচরণ, চিকিৎসক সংকট এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অভাবে রোগীরা প্রত্যাশিত চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন না। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও এ ঘাটতি পূরণ হচ্ছে না। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর গুণগত মান রক্ষার সক্ষমতা বিবেচনা না করেই নির্বিচারে এসব হাসপাতাল পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার ফলে এ খাতের চিকিৎসাসেবার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এমতাবস্থায়, চিকিৎসাসেবায় ব্যয় বাড়লেও উপযুক্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হচ্ছে না কোনোভাবেই।

মো. দ্বীন ইসলাম: শিক্ষার্থী, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

×