ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে করণীয়

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে করণীয়
×
×

মো. আরমান রহমান ইভান 

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

একটি খবর চোখে পড়ল। ভালোভাবে না পড়ে শেয়ার করে দিলাম। কারও একটি মন্তব্য পছন্দ হলো না, সঙ্গে সঙ্গে কটু কথা বলে ফেললাম। আবার কারও ব্যক্তিগত ছবি বা কোনো বিষয় নিয়ে না ভেবে মন্তব্য করে বসলাম। কাজগুলো করতে হয়তো কয়েক সেকেন্ড লাগে। এই কয়েক সেকেন্ডের অসতর্কতার প্রভাব অনেক সময় একজন মানুষের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকতে পারে।
এখানে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এটি এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ফেসবুক, ইউটিউব, মেসেঞ্জারসহ নানা মাধ্যমে আমরা খবর পড়ি, ছবি দেখি, মতামত দিই এবং একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। 

প্রশ্ন হলো, এই মাধ্যমগুলো আমরা কতটা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করছি? দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেকে কোনো খবরের সত্যতা যাচাই না করে তা শেয়ার দেন। ফলে একটি ভুল তথ্য বা গুজব খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। আবার কারও মতামত নিজের পছন্দ না হলে শুরু হয় কটু কথা, অপমান কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণ। অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও অনেকে অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য করতে দ্বিধা করেন না। ধীরে ধীরে এসব আচরণ আমাদের সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও মানবিকতার জায়গাটিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। 

মনে রাখা দরকার, সামাজিক মাধ্যমে প্রতিটি কথা শুধু একটি লেখা নয়। এর পেছনে একজন মানুষ আছেন, যার অনুভূতি আছে, সম্মান আছে। একটি মন্তব্য হয়তো লেখকের কাছে সামান্য কিছু, কিন্তু যাকে উদ্দেশ করে বলা হচ্ছে, তাঁর কাছে সেটি হয়ে উঠতে পারে কষ্টের কারণ। তাই কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা, ভিন্নমতের প্রতি সম্মান দেখানো এবং অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করার জন্য, বিবেক ও বিচারবোধকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্ববোধও জরুরি। আমরা কী বলছি, কেন বলছি এবং আমাদের কথার প্রভাব কী হতে পারে এই তিনটি বিষয় ভাবার অভ্যাস আমাদের গড়ে তুলতে হবে।

মো. আরমান রহমান ইভান: শিক্ষার্থী দর্শন বিভাগ, ঢাকা কলেজ
 

আরও পড়ুন

×