মরা চেলায় বালু লুট কে ঠেকাবে
রাসেল আহমদ
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জের মরা চেলা নদীর তীরবর্তী একটি পুকুর ও কৃষিজমি থেকে মাত্র তিন রাতে প্রায় দুই লাখ ৭০ হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তোলন করা বালুর আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গেলে জমির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ; কিন্তু ঘটনাটি এতটাই গুরুতর যে এটি শুধু একটি জমি নিয়ে বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রাকৃতিক সম্পদ, কৃষিজমি, পরিবেশ এবং নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্ন। মরা চেলার ঘটনায় উদ্বেগের বড় কারণ হলো, অভিযোগ অনুযায়ী নদী থেকে নয়, পুকুর ও কৃষিজমি গভীর করে বালু তুলে নেওয়া হয়েছে। একটি কৃষিজমির স্বাভাবিক স্তর কেটে গভীর গর্ত সৃষ্টি করা হলে ভবিষ্যতে সেখানে কৃষিকাজ ও মাছ চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আশপাশের জমি, বসতভিটা ও চলাচলের পথও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ফলে ক্ষতিটা শুধু জমির মালিকের ব্যক্তিগত সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর সঙ্গে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতি ও পরিবেশের স্বার্থও জড়িয়ে পড়ে। এখানে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্ন।
জানা গেছে, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানাসহ উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং নৌ-পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় শুধু তাৎক্ষণিক অভিযান যথেষ্ট নয়। অবৈধ বালু উত্তোলনের পেছনে যদি কোনো সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় থাকে, তাহলে তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, ভূমি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং পুনরায় একই স্থানে এমন কর্মকাণ্ড না ঘটতে দেওয়া–দুটিই নিশ্চিত করতে হবে।
মরা চেলার বালু যদি সত্যিই অবৈধভাবে উত্তোলন করা হয়ে থাকে, তবে সেখানে শুধু বালু সরেনি; ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিজমি, পরিবেশ এবং মানুষের নিরাপত্তার অধিকারও। সেই ক্ষতি বন্ধ করার দায়িত্ব কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়; এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
রাসেল আহমদ: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক
- বিষয় :
- বালুদস্যু