ডেঙ্গুতে ব্যর্থ নগর ব্যবস্থাপনা
তাবাসসুম নাইনা রুহি
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:২৮ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:০৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
ডেঙ্গুতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান প্রায় প্রতিদিন সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়। শুক্রবার প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু বিস্তারের ক্ষেত্রে সাধারণত জমে থাকা পানি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও এডিস মশার বংশবিস্তারের কথা বলা হয়। এর বাইরেও নগরব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, ফুটপাতের অর্থনীতি, অপরিকল্পিত অবকাঠামো এবং নাগরিক সেবার সীমাবদ্ধতার মতো কিছু কাঠামোগত সমস্যা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তুলছে। অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ফুটপাতের দোকান ও খাবারের দোকানের বর্জ্যব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, নির্মাণাধীন ভবন ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশগত তদারকির ঘাটতি, বর্জ্য সংগ্রহ ও পানি নিষ্কাশনের দায়িত্বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতা, নগরায়ণ, জনঘনত্ব ও মানুষের প্রতিদিনের চলাচলের কারণে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জটিলতাসহ নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে রাজধানী এবং আশপাশের এলাকা।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রথমেই কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, নালা নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে হবে। ফুটপাতের খাবারের দোকানগুলোতে নির্দিষ্ট ডাস্টবিন স্থাপন, নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ এবং নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি অপসারণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, আক্রান্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার কার্যকরভাবে কমানো সম্ভব। ডেঙ্গু শুধু ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সমস্যা নয়; এটি নগর পরিকল্পনা, বর্জ্যব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশন, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সম্মিলিত চ্যালেঞ্জ।
তাবাসসুম নাইনা রুহি: উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ
- বিষয় :
- ডেঙ্গু