বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার কাজ স্থগিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বুধবার
ফাইল ছবি-সমকাল
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ২২:৩৬ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ২২:৪৭
ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরের ভাস্কর্য ভাঙার কাজ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সমালোচনার মুখে নতুন স্থানে পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য স্থাপনের আগ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। আগামী বুধবার বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুশীল সমাজ, বীরশ্রেষ্ঠের পরিবার ও সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশাসনের যৌথ বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে পরিবারের দাবি, যেখানে ভাস্কর্যটি ছিল, সেখানেই এটি পুনর্নির্মাণ করা হোক।
এদিকে, অসম্পূর্ণ ভাস্কর্যটি দ্রুত উপযুক্ত স্থানে প্রতিস্থাপনের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। রোববার জেলা প্রশাসকের কাছে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে মুক্তিযোদ্ধারা উল্লেখ করেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ঝিনাইদহের অহংকার। এই মহান বীরের স্মৃতিসৌধ অপসারণ করা মুক্তিযোদ্ধারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে না। মহাসড়কের বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন সড়কদ্বীপে অসম্পূর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখা এই স্তম্ভটি অপসারণ করে দ্রুত অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে তাঁর একটি ম্যুরাল প্রতিস্থাপন করতে হবে। অনতিবিলম্বে পুনর্নির্মাণের স্পষ্ট অঙ্গীকার ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ না করলে বীর মুক্তিযোদ্ধারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। স্মারকলিপিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ মাস্টার, কামালুজ্জামানসহ বেশ কয়েকজন প্রবীণ নেতা স্বাক্ষর করেন।
জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে, একটি নতুন পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের পরই এই অসম্পূর্ণ স্তম্ভটি অপসারণ করা হবে। আগামী বুধবারের সভায় শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উপযুক্ত স্থান চূড়ান্ত করে সেখানে বীরশ্রেষ্ঠের পূর্ণাঙ্গ অবয়বসহ ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে।
বর্তমান স্থানেই পুনর্নির্মাণের দাবি পরিবারের
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, ভাস্কর্যটি যখন উদ্বোধন করা হয়, তখন আমিসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কী কারণে এটির নির্মাণকাজ বন্ধ হয়েছিল, সেটি আমাদের জানানো হয়নি। বর্তমানে ভাস্কর্যটি ভাঙা হচ্ছে এটি দুঃখজনক। আমাদের পরিবারের দাবি, বর্তমানে যে স্থানটিতে ভাস্কর্যটি রয়েছে, সেখানেই সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে পূর্ণাঙ্গরূপে, প্রকৃত ডিজাইন অনুসরণ করে এটি নির্মাণ করা হোক। যাতে করে যানবাহন বা মানুষের চলাচলে কোনো সমস্যা তৈরি না হয়।
বুধবারের সভার বিষয়ে হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই সভার বিষয়ে আমরা এখনও জানি না, তবে প্রশাসন থেকে ডাকলে সভায় আমরা উপস্থিত হব।’
পৌরসভা সূত্র জানায়, ২০১২ সালে ৩২ লাখ টাকার এই প্রকল্পটি নেওয়া হলেও ২০১৬ সালে তা পাস হয়। ২০১৯ সালের মার্চে বাস টার্মিনাল এলাকায় এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তবে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নির্মাণকাজ থমকে যায়। দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল এটি। মহাসড়কের মাঝখানে সাড়ে ৬ ফুট উঁচু বেদির কারণে এক পাশ থেকে অন্য পাশের যানবাহন দেখা যেত না। ফলে এই ইন্টারসেকশনে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটত। এ ছাড়া অসম্পূর্ণ এই প্রতিকৃতির সঙ্গে বীরশ্রেষ্ঠের অবয়বের কোনো সাদৃশ্য ছিল না। এর পরিপ্রেক্ষিতেই জেলা পরিষদ স্থাপনাটি অপসারণের কাজ শুরু করেছিল।
- বিষয় :
- বীরশ্রেষ্ঠ
- ভাস্কর্য