ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে চায় সরকার

তথ্য উপদেষ্টার ব্রিফিং

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে চায় সরকার
×

ডা. জাহেদ উর রহমান

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সরকার শুরু থেকেই শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। ভারতের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাঁকে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার বদ্ধপরিকর। স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। দেশের জনগণ চায় তাঁর অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকুক। 

সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা যদি দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেশে ফিরে আসেন, তবে তা অত্যন্ত ভালো। দেশে ফিরে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন। বর্তমানে আইসিটিতে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তিনি চাইলে পৃথিবীর সবচেয়ে নামকরা আইনজীবীদের এনেও নিজের পক্ষে লড়াই করতে পারেন। বিচার প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করতে সেখানে পর্যবেক্ষক রাখার এবং ভিডিও ক্যামেরায় ধারণের আধুনিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইসিটি আইনকে এতটাই আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়েছে যে, পুরো বিচার প্রক্রিয়া একেবারে স্বচ্ছতার সঙ্গে চলবে। দেশের জনগণ চায় তাঁর অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিচার হোক এবং তাঁর মৃত্যুদণ্ডের যে রায় রয়েছে, তা যেন বহাল থাকে। জনগণ সেই রায় কার্যকর দেখতে চায়। 
তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, শেখ হাসিনা যদি আদালতে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন, কিংবা আদালত যদি তাঁকে অন্য কোনো শাস্তি দেন বা খালাস দেন– আমরা তা মেনে নেব। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটি এমনই হওয়া উচিত। মূলত এই কারণেই আমরা তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই এবং তাঁর আসাকে স্বাগত জানাচ্ছি, কারণ আমরা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যিনি আমাদের এই রাষ্ট্রটিকে ধ্বংস করে ফেলেছেন বলে আমরা মনে করি, তাঁকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দিয়ে সুষ্ঠু বিচারের মুখোমুখি করতে চাই।
ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। 

এ প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেটি সরকারের সিদ্ধান্ত নয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা। সরকার কেবল আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে আমি বড় কোনো ইস্যু বলে মনে করি না। আমরা এতক্ষণ ধরে যাকে নিয়ে আলোচনা করছি, তিনি এখন দেশের রাজনীতিতে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক একজন মানুষ। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, বিভিন্ন মহলে বা মাধ্যমে তাঁর কথা বারবার আসায় তিনি এখন এক ধরনের প্রাসঙ্গিকতা পাচ্ছেন। শুধু আমি নই, এমনকি আওয়ামী লীগের প্রতি যাদের সামান্যতম সহানুভূতি আছে, তারাও বিশ্বাস করেন না যে এ দেশে তাঁর আর কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রয়েছে।’
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, আমাদের চারপাশে যে সাধারণ মানুষ বা রাজনৈতিকভাবে সচেতন ব্যক্তিরা রয়েছেন, তারাও মনে করেন না যে এ দেশে শেখ হাসিনার আর কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আছে। সুতরাং, তাঁর ফিরে আসার বিষয়টিকে আমি কোনো চাপ বা সংকট বলে মনে করি না। আমরা কেন চাপে পড়ব? আমরা তো তাঁকে ফিরিয়ে আনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা যদি চাইতাম তিনি ওখানেই থাকুন, আর তিনি হুট করে চলে আসছেন– তাহলে হয়তো চাপের একটি প্রশ্ন আসত। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি তেমন নয়। শুধু পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারই নয়, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও নিশ্চিত করেছেন যে, আমরা ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছি। 

আরও পড়ুন

×