ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টিভির খবরে জানতে পারি বাবা বন্দুকযুদ্ধে নিহত

ট্রাইব্যুনালে ছেলের জবানবন্দি

টিভির খবরে জানতে পারি বাবা বন্দুকযুদ্ধে নিহত
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:০৭ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ শাসনামলে ১১ বছর আগে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন এক ভুক্তভোগীর সন্তান। 

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-২ এ গতকাল বুধবার সাক্ষ্য দেন আগৈলঝাড়া উপজেলার জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লার ছেলে আশিকুর রহমান আছিফ। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই।

জবানবন্দিতে আশিকুর রহমান আছিফ বলেন, আমার বাবা কবির মোল্লা দীর্ঘদিন আগৈলঝাড়া থানার নগরবাড়ি গ্রামে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা। আগৈলঝাড়া উপজেলায় তারা অনেক জনপ্রিয় ছিলেন। এই জনপ্রিয়তার কারণে বরিশাল-১ আসনের তৎকালীন এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ তাদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন এবং বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখাতেন।

আশিকুর রহমান বলেন, ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি আমার বাবার নামে আগৈলঝাড়া থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের বিষয়ে জানতে পারি। ওই দিন ১২-১৩ জন কুড়গাঁওয়ের বাসা থেকে নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে আমার বাবাকে নিয়ে যায়। আমার মা জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায়, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির নির্দেশে আমার বাবাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

আছিফ বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে টেলিভিশনের খবরে জানতে পারি– আমার বাবা ও টিপু হাওলাদার কাকা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। গ্রাম থেকে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে জানতে পারি, পুলিশ আমার বাবা ও টিপু হাওলাদারকে হত্যা করেছে। পরে আমরা গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেখতে পাই, পুলিশ আমার বাবার লাশ ময়নাতদন্ত শেষে বাড়িতে রেখে গেছে। লাশ দাফনের পর ঢাকায় চলে এসে জানতে পারি, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে বরিশাল জেলার এসপি এহসানউল্লাহর মাধ্যমে উজিরপুর থানার দুজন পুলিশ সদস্য এএসআই মাহাবুল ও এএসআই জসিমকে দিয়ে আমার বাবা ও টিপু কাকাকে হত্যা করিয়েছেন। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও খবরের মাধ্যমে জানতে পারি, বরিশাল জেলায় আরও পাঁচ-ছয়জনকে ‘ক্রসফায়ার’-এর নামে হত্যা করা হয়েছে। 

এই মামলা আসামিরা হলেন– সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ ও উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন। এর মধ্যে মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার রয়েছেন।

আরও পড়ুন

×