ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জবানবন্দিতে সেলিনা বেগম

কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে টিপুকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যায়

কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে টিপুকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যায়
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৩৩ | আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৩৯

এগারো বছর আগে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন সেলিনা বেগম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মঙ্গলবার তিনি জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে সেলিনা বেগম বলেন, ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরে তাঁর বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার। ওই রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন এসে ঘুম থেকে তুলে টিপুকে নিয়ে যায়। 

তিনি বলেন, টিপুকে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি চিৎকার করলে পাশের বাসার নাহার বেগম এগিয়ে আসেন। পরে তাঁরা দুজন টিপুকে যে স্থান থেকে গাড়িতে তোলা হয়, সেখানে পর্যন্ত যান। ঘটনার পরপরই তিনি তাঁর ভাগনিকে ফোন করে বিষয়টি জানান।

সেলিনা বেগম আরও বলেন, টিপুকে নিয়ে যাওয়ার পরদিন তাঁর ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার খবর পান। ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে টেলিভিশনের খবরে তিনি জানতে পারেন, টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা নামে দুজন ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। তাঁর ভাগনির কাছে তিনি শুনেছেন, অন্য থানার দুজন পুলিশ টিপুকে ক্রসফায়ারে হত্যা করেছেন।

আদালতে সেলিনা বেগম জানান, তাঁর ভাগনির স্বামী ছিলেন টিপু হাওলাদার। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার দুজন হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা। তাঁরা দুজনই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ মামলার আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন এবং তৎকালীন পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ। তাঁদের মধ্যে মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার আছেন।

আরও পড়ুন

×