টেকনাফে একরাম ও সাভারে ইয়ামিন হত্যা
শেখ হাসিনাসহ ২০ জনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ০২:২৬
আট বছর আগে টেকনাফে সাবেক কাউন্সিলর একরামুল হককে ক্রসফায়ারে হত্যার ঘটনায় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাভারে এপিসি থেকে ফেলে আসহাবুল ইয়ামিন হত্যার ঘটনায় পৃথক দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২০ জনকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে প্রথম মামলায় পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় মামলায় সাভারের সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৩ জনকে হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের একক বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার পৃথক এ আদেশ দেন।
এদিকে সাবেক কাউন্সিলর একরামকে ক্রসফায়ারে হত্যার ঘটনায় কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদিসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। কারাগারে পাঠানো অন্য তিন আসামি হলেন– ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম ও র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল (অব.) আনোয়ার লতিফ খান। এদিন চারজনই ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাবজেল আছেন মাহবুব ও আনোয়ার লতিফ।
শেখ হাসিনা ছাড়া পলাতক অন্য আসামিরা হলেন– সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লে. কমান্ডার আশেকুর রহমান ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ অলি মিয়া। শুনানিতে তিনি বলেন, এ মামলায় গত ২৬ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তিনজনের বিরুদ্ধে শ্যোন অ্যারেস্ট ও সাতজনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার চারজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়া বাকি সাতজনের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়েও পাওয়া যায়নি।
এ সময় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা চারজনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি বাকি সাতজনকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আবেদন জানান প্রসিকিউটর অলি মিয়া। শুনানি শেষে দুই আবেদন মঞ্জুর করে সাবেক-বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য ৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর ১২টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালীয়া পাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনি। একরামুল টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা ও হত্যার নির্দেশ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।
সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৩ জনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাভারে এপিসি থেকে ফেলে আসহাবুল ইয়ামিন হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে শান্তিপূর্ণ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা চালান পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। ইয়ামিনকে ধরে টেনে পুলিশের সাঁজোয়া যানের কাছে নিয়ে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বুকের বাঁ পাশে গুলি করেন তারা। গুলিতে তাঁর বুকের বাঁ পাশে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। পরে মৃত অবস্থায় তাঁকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। আসহাবুল ইয়ামিন এমআইএসটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- বিষয় :
- আত্মসমর্পণ
- বিজ্ঞপ্তি