রংপুরে চার খুন
আদালতে মুগ্ধ-সিদ্ধার্থের বন্ধু সীমান্তের জবানবন্দি
গ্রেপ্তার দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস। ছবি-সংগৃহীত
মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:৩৫
দেশজুড়ে আলোচিত রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় সাক্ষী হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন সীমান্ত চন্দ্র দাস নামে এক যুবক। তিনি মামলার গ্রেপ্তার দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের বন্ধু। হত্যাকাণ্ডের রাতে তাঁর বাসায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন সীমান্ত।
রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সীমান্তের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সীমান্ত কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ার সুবাস চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি কাপড়ের দোকানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক জিন্নাত আলী বলেন, সীমান্ত আদালতে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা আসামিদের দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে মিলেছে। আসামিরা সীমান্তের বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিল বলে তথ্য দিয়েছিল। সীমান্তও আদালতে একই তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে গত রোববার সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ সীমান্তের বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী বলেন, আসামিদের ডোপ টেস্টের জন্য সোমবার সকালে ডাকা হয়েছে। এরই মধ্যে ডোপ টেস্টের জন্য আবেদন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ড ঘিরে মানুষের মনে থাকা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে খোঁজা হবে। এ ঘটনায় যত প্রশ্ন রয়েছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সেসবের উত্তর বের করা হবে।
এ ঘটনায় গত রোববার রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানায় নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ওই দিন রাতেই গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।