ভৈরবে সাবেক কাউন্সিলর হত্যায় মামলা
আল আমিন সৈকত। ছবি: সংগৃহীত
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:২১
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাবেক কাউন্সিলর আল আমিন সৈকত হত্যা মামলায় তার স্ত্রী তানিয়া খানম ২৩ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে ভৈরব থানায় তিনি এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় আল আমিন সৈকতের চাচা মোমেন মিয়া, তার তিন ছেলে বাবু, জুম্মান ও হাসানসহ পরিবারের সদস্য ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তদন্তের স্বার্থে এখনই আসামিদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে নিহতের চাচা ও তার তিন চাচাতো ভাইসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য মামলায় আসামি হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চাচার পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারে নাই।
ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে সাবেক কাউন্সিলর আল আমিন সৈকতকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন ফুটেজের সঙ্গে মামলার এজাহারে থাকা আসামিদের বিষয়ে পাওয়া তথ্যের মিল রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, আল আমিন সৈকতের বাবা জসিম উদ্দিন এবং দুই চাচা নজরুল ইসলাম ও মোমেন মিয়া। জসিম উদ্দিন ও নজরুল ইসলাম মারা গেছেন। মোমেন মিয়া ভৈরব বাজারের তেল ব্যবসায়ী। তার ছেলে বাবু (২৯), জুম্মান (২৪) ও হাসান (২২)। ভৈরব বাজারে ‘ফকির মার্কেট’ নামে তাঁদের একটি পারিবারিক সম্পত্তি রয়েছে। ওই সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে কয়েক বছর ধরে চাচার পরিবারের বিরোধ চলছিল।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হোটেল রিভারভিউ থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন আল আমিন সৈকত। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১১টা ৪২ মিনিটে মোটরসাইকেলে টিন বাজার গোপাল জিউর মন্দির অতিক্রম করে রমজান মিয়ার হাউলির ভেতর দিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। রাত ১১টা ৪৩ মিনিটে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন তার গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। রাত ১১টা ৪৬ মিনিটে মোটরসাইকেলে করে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। হামলায় মুখ, কপাল, হাত ও পায়ে গুরুতর জখম হন আল আমিন সৈকত। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের মা মিনারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের পর তার দেবরের ছেলেরা আল আমিনকে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দিতেন। বিষয়টি বিশ্বাস করেননি। মনে হচ্ছে, সেই হুমকিই বাস্তব হয়েছে।
আল আমিন সৈকতের স্ত্রী ও মামলার বাদী তানিয়া খানম বলেন, পারিবারিক সম্পত্তি ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে চাচার পরিবারের সঙ্গে তাঁর স্বামীর বিরোধ ছিল। একাধিকবার মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সমাধান হয়নি। ফুফুদের পক্ষ নিয়ে কথা বলাকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইদের সঙ্গে আল আমিনের একাধিকবার বিরোধ ও মারামারিও হয়েছিল। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে সম্পত্তির বিরোধ মিটিয়ে দেওয়া হলেও আমার স্বামীর প্রতি চাচাতো ভাইদের ক্ষোভ ছিল। তাকে একাধিকবার হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, রোববার রাতে স্ত্রীকে ভাত বেড়ে রাখার কথা বলে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির চায়।
নিহত আল আমিন সৈকত ভৈরব পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক এবং জেলা সার সংগঠন বিএফএ’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সার ও রাইস মিল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভৈরব বাজারে তাঁর একটি আবাসিক হোটেলও রয়েছে। তাঁর পরিবারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামলার এক আসামি হাসানকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে প্রচার করা হলেও ভৈরব উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন, হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।
- বিষয় :
- হত্যা মামলা
- কিশোরগঞ্জ