কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিতের নির্দেশ
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:৩৮ | আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:৫৪
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ), নো ডেভেলপমেন্ট জোন ও সংরক্ষিত পর্যটন এলাকায় ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের সব কার্যক্রমের ওপর আট সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সড়ক নির্মাণ এবং তা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত, জনস্বার্থবিরোধী ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। ইতিমধ্যে নির্মিত সড়কের অংশবিশেষ অপসারণ করে সমুদ্রসৈকত ও এর জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক জনস্বার্থমূলক মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী। তাঁকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী হাসানুল বান্না ও রুমানা শারমিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বেলার আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হোটেল সায়মন পর্যন্ত এলাকায় কক্সবাজার পৌরসভা সড়কটি নির্মাণ করছে। ‘নগর উন্নয়ন ও নগর শাসন প্রকল্প’-এর আওতায় জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে এ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সড়ক নির্মাণের জন্য সৈকতের বিশাল এলাকা ভরাট করা হয়েছে। পাশাপাশি উপকূল সুরক্ষার অন্যতম প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে পরিচিত বহু বছরের বালিয়াড়ি এক্সকাভেটর দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এতে সৈকতের পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাগরলতা, লাল কাঁকড়া এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মামলার আবেদনে বলা হয়, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে এবং সেখানে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্ট এর আগে একাধিক রায় ও আদেশ দিয়েছেন। এসব আদেশের পরও সৈকতের ইসিএ ও নো ডেভেলপমেন্ট জোনে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।
বেলা বলছে, বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে এবং সর্বোচ্চ আদালতের আগের আদেশ বাস্তবায়নের দাবিতে তারা জনস্বার্থে মামলাটি করেছে।
মামলায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; স্থানীয় সরকার বিভাগ; গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের পরিচালক এবং ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই) লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজারকে বিবাদী করা হয়েছে।
- বিষয় :
- কক্সবাজার
- সমুদ্রসৈকত
- হাইকোর্ট
- সড়ক নির্মাণ