ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্রাইব্যুনালে ২ সাক্ষী

শামীম ওসমানের নেতৃত্বে হামলায় আহত ও নিহত হয়েছেন বহু মানুষ

শামীম ওসমানের নেতৃত্বে হামলায় আহত ও নিহত হয়েছেন বহু মানুষ
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:১৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি একেএম শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন কাউসার আহমেদ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। 

জবানবন্দিতে নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার বাসিন্দা কাউসার আহমেদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জের ‘গডফাদার’ শামীম ওসমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলায় বহু মানুষ আহত ও নিহত হয়েছেন। ওই হামলায় নিজের বাম পায়ে গুলি লাগার পর রাস্তায় পড়ে যান বলেও জানান তিনি।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক কাউসার আহমেদের নাম ‘গ’ শ্রেণির আহত জুলাইযোদ্ধা হিসেবে সরকারি গেজেটভুক্ত হয়েছে।

জবানবন্দিতে কাউসার বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টায় বাসা থেকে বের হয়ে আধাঘণ্টার মধ্যে চাষাঢ়া মোড়ে গিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেই। আন্দোলনরত অবস্থায় দুপুর পৌনে ২টার দিকে চাষাঢ়া মোড়ে শামীম ওসমানের বাড়ির সামনে আমাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালান ২০-২৫ জন। এরমধ্যে শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, টিটু, শাহ নিজাম, ফাইজুল, নিয়াজুল, টিপু, দিপু, সাইদ ছিলেন উপস্থিত ছিলেন। তাদের হাতে দেশি-বিদেশি অস্ত্র ছিল। তাদের ছোড়া একটি গুলি আমার বাম পায়ে লাগে। এতে আমি রাস্তায় পড়ে যাই। পরে মিডফোর্ড হাসপাতাল থেকে ডাক্তাররা অপারেশন করে গুলি বের করেন।


শ্রমিকদলের এই নেতা জানান, ৫ আগস্ট আমি ছাড়াও আরও অনেকে গুলিতে আহত হয়েছিলেন। সুজন নামে একটি ছেলে প্রাণ হারিয়েছেন। তার বাড়ি বন্দর এলাকায়। শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের গডফাদার। তার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা নারায়ণগঞ্জে বহু মানুষকে আহত ও নিহত করেছেন। এ সময় নিজেকে ও অন্যান্য আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং আহত করার জন্য জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন সাক্ষী।


স্বামী হত্যার বিচার চান আদুরী বেগম

এ মামলায় আরেক সাক্ষ্য দিয়েছেন চাষাঢ়ায় গোলচত্বরের সামনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে নিহত বদিউজ্জামানের স্ত্রী আদুরী খাতুন। তিনি সাক্ষ্য দেওয়ার সময় উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে গিয়ে ট্রলিতে স্বামীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। তখন লাশটি দ্রুত হাসপাতাল থেকে সরিয়ে ফেলতে বলেন শামীম ওসমানের লোকজন। পরে মরদেহ রংপুর কাউনিয়ার বাড়িতে নেওয়ার পর গোসলের সময় তার সারা শরীরে আঘাতের দাগ দেখতে পান। আদুরী বেগমের স্বামী বদিউজ্জামান নারায়ণগঞ্জে নিট কনসাট গ্রুপে চাকরি করতেন। 


তিনি আরও বলেন, স্বামীকে দাফন করার তিন-চারদিন পর নারায়ণগঞ্জে ফেরত আসি। পরবর্তী সময়ে জানতে পারি যে, শামীম ওসমান ও তার লোকজন মিলে আমার স্বামীকে আঘাত করে হত্যা করেছে। এ সময় ট্রাইব্যুনালে স্বামীর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার চান আদুরী।

আরও পড়ুন

×