ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে শিরোপা লড়াইয়ে সাবালেঙ্কা-রিবাকিনা

নিউইয়র্কে শিরোপা লড়াইয়ে সাবালেঙ্কা-রিবাকিনা
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:৫৩

নিউইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোতে হতে পারত নারী এককে অল আমেরিকান ফাইনাল। তা হতে দেননি আরিনা সাবালেঙ্কা এবং এলিনা রিবাকিনা। ইউএস ওপেনে আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে শুক্রবার ভোরে হওয়া প্রথম সেমিফাইনালে তৃতীয় বাছাই জেসিকা পেগুলাকে ৭-৫, ৬-২ গেমে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেন বেলারুসের টেনিস তারকা সাবালেঙ্কা। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ইউএস ওপেন জয়ের পথেও তিনি পেগুলাকে পরাজিত করেছিলেন। চতুর্থ বাছাই কোকো গফ যুক্তরাষ্ট্রের টেনিসপ্রেমীদের আশা দেখাচ্ছিলেন। কাজাখস্তানের এলিনা রিবাকিনার বিপক্ষে প্রথম সেট জিতেও যান তিনি। দুর্দান্ত কামব্যাকে পরের দুই সেট নিজের করে নিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে পা রাখেন রিবাকিনা। আগামীকাল রোববার ভোরে ফাইনালে মুখোমুখি হবেন রিবাকিনা ও সাবালেঙ্কা। সেমিফাইনালে ওঠার মাধ্যমে ইতোমধ্যে বেলারুশিয়ান তারকা সাবেলেঙ্কাকে সরিয়ে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠা নিশ্চিত করে ফেলেছেন রিবাকিনা।

বেলারুশের সাবালেঙ্কা গত দু’বারের ইউএস চ্যাম্পিয়ন। এবার জিততে পারলে চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক করবেন। এই কৃতিত্ব রয়েছে শুধু ক্রিস এভার্ট এবং সেরেনা উইলিয়ামসের। তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনবার ইউএস ওপেনে সেরা হওয়ার সামনে তিনি। সাবেলেঙ্কা তাঁর শক্তিশালী গ্রাউন্ডস্ট্রোকের মাধ্যমে তৃতীয় বাছাই পেগুলাকে কোণঠাসা করে রাখেন। জয়ের পর সাবালেঙ্কা বলেন, ‘আমি ফাইনালের জন্য খুব মরিয়া ছিলাম। আমি ফাইনালে উঠতে চেয়েছিলাম এবং অবশ্যই পুরো শিরোপাটি জিততে চাই।’ পেগুলার প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে সেরা পারফর্ম করার পর সাবালেঙ্কা আরও যোগ করেন, ‘আমার মানসিকতা ছিল কেবল তৈরি থাকা। জয় পেতে যা কিছু করা লাগুক না কেন, আমি তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম।’

প্রথম সেটে পেগুলার সার্ভের বিরুদ্ধে পয়েন্ট বের করতে না পেরে কিছুটা হতাশ দেখা যায় সাবালেঙ্কাকে। তবে তিনি মনোযোগ বজায় রাখেন এবং ৬-৫ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় পেগুলা নিজের সার্ভে ০-৪০ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েন। পেগুলা একটি সেট পয়েন্ট বাঁচাতে পারলেও পরেরটি ধরে রাখতে পারেননি। দ্বিতীয় সেটে সাবালেঙ্কা নিজের দাপট বজায় রাখেন। পেগুলার দুর্বল দ্বিতীয় সার্ভ আক্রমণ করে এবং একটি নিখুঁত ফোরহ্যান্ড শটে পয়েন্ট নিয়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যান। এরপর আরেকটি শক্তিশালী ফোরহ্যান্ড শটে সার্ভিস ব্রেক করে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। 

ম্যাচ শেষে পেগুলা বলেন, ‘আমি মনে করি তাঁর খেলার মান অবিশ্বাস্য রকমের উঁচুতে ছিল। সত্যি বলতে, আজ আমার খুব বেশি কিছু করার ছিল না।’

২০২৩ সালের ফাইনালে সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে শিরোপা জেতা কোকো গফ এবারও ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে ভালো শুরু করেছিলেন। প্রথম সেটে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে যান এবং নিজের সার্ভিস গেম ধরে রেখে সেটটি জিতে নেন। তবে দ্বিতীয় সেটে রিবাকিনা ঘুরে দাঁড়ান এবং দ্রুত ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যান। গফ অসাধারণভাবে ম্যাচে ফিরে এসে ৪-৪ সমতা আনেন। নিজের লড়াই ধরে রাখতে ব্যর্থ হন গফ। দশম গেমে ডাবল-ফল্ট করে রিবাকিনাকে দুটি সেট পয়েন্ট উপহার দেন এবং রিবাকিনা সেটির সুযোগ নিয়ে ম্যাচ তৃতীয় সেটে গড়ায়। তৃতীয় সেটে ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যান রিবাকিনা। 

গফ আবার সার্ভিস ব্রেক করে খেলায় ফেরার চেষ্টা করলেও পরের গেমে রিবাকিনা জয় ছিনিয়ে নেন। রিবাকিনার একটি সূক্ষ্ম ভলি তাঁকে দুটি ম্যাচ পয়েন্ট এনে দেয় এবং শেষ পয়েন্টে গফ একটি সহজ স্ম্যাশ কোর্টের বাইরে মারলে রিবাকিনার জয় সুনিশ্চিত হয়। জয়ের পর রিবাকিনা বলেন, ‘আমার মনে হয় তাঁর সার্ভের সময় আমি কিছুটা ভাগ্যবান ছিলাম। কিছু গভীর রিটার্ন এবং তাঁর একটি ভুলের কারণে দ্রুত ম্যাচ আমার দিকে চলে আসে। এটি একটি সত্যি কঠিন লড়াই ছিল।’

আরও পড়ুন

×