গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা শূন্যের কোঠায়
আইনমন্ত্রী বললেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংগৃহীত
সমকাল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০২ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে শূন্য-সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব ঘটনা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। একই সময়ে কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে এমন অভিযোগও পাওয়া যায়নি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ও ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এতে সাংবিধানিক শাসন, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত যে বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তারা এসেছেন, সেখানে যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে। তাদের হাতে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ রয়েছে। তিনি বলেন, প্রমাণগুলো এতটাই শক্তিশালী যে বিশ্বের যেকোনো ট্রাইব্যুনালকে এই সিদ্ধান্তে আসতে হবে যে, এসব ব্যক্তির দ্বারা অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং তা যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধান ও সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের একাডেমিক আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আইন, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক চর্চা নিয়ে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ১৭৮৭ সালের গ্রীষ্মে ফিলাডেলফিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের জন্য প্রতিনিধিরা সমবেত হয়েছিলেন। বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য ও বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও তারা এমন একটি সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ক্ষমতার পৃথককরণ ও পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যাতে সম্পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক সভাপতিত্ব করেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালামসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, আইনজীবী, গবেষক, শিক্ষার্থী, আইন ও বিচার অঙ্গনের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্ব শেষে ‘ইউএস কনস্টিটিউশন’-বিষয়ক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ব্যবস্থা, ক্ষমতার পৃথককরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক অধিকার এবং দুই দেশের সাংবিধানিক অভিজ্ঞতার তুলনামূলক দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় শিক্ষক, আইনজীবী, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
‘ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করতে চাই না’
বিকেলে ঢাকা আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে চাই। সাম্প্রদায়িকতাকে কেন্দ্র করে আমরা কোনো রাজনীতি করতে চাই না। ধর্ম নিয়ে ব্যবসাও করতে চাই না।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, এই দেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, সাঁওতাল, চাকমা, মারমা, মুরংসহ সকল মানুষের। তিনি বলেন, ‘ধর্মকে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিয়ে এসে মানুষের রক্তপাত আমরা ঘটাতে চাই না। তাই বিএনপি সবসময় বলে, বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল, যারা ধর্মহীনতার বিরুদ্ধে কথা বলে, যারা ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে কথা বলে।’
সরকার নাগরিক অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া শক্তিশালীকরণবিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে সরকার প্রত্যেক নাগরিক অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।আইন মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বলেন, মানব পাচার হলো সবচেয়ে গুরুতর, অমানবিক এবং নিষ্ঠুর কাজগুলোর একটি। এই প্রক্রিয়ায় ঠগ, অপরাধী ও মাফিয়ারা অর্থ
আদায় করে। তারা এ দেশের জীবনের বিনিময়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। সরকার এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
- বিষয় :
- আইনমন্ত্রী