প্রবাসীদের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনা: আইনমন্ত্রী
রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি : বাসস
বাসস
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:৪০ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:৪৯
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, প্রবাসীরা বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়ে দেশে সম্পত্তি কেনা কিংবা পরিবারের কাছে পাঠানো টাকা ফেরত চাওয়াসংক্রান্ত মামলায় বছরের পর বছর হয়রানির শিকার হন। এই ভোগান্তি কমাতে বিভাগীয় সদর দপ্তরগুলোতে প্রবাসীদের জন্য বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব আদালত শুধু প্রবাসীদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কাজ করবে। বর্তমানে প্রস্তাবটি খসড়া পর্যায়ে রয়েছে।
মঙ্গলবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মিলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সোপান অভিবাসী শ্রমিকরা। তৈরি পোশাক, কৃষি, চিংড়ি, পাট ও চা রপ্তানির পাশাপাশি শ্রম রপ্তানি বর্তমানে অর্থনীতির মূল মেরুদণ্ড। কায়িক শ্রমের পাশাপাশি এখন বুদ্ধিবৃত্তিক অভিবাসনও বিকশিত হচ্ছে। প্রবাসী শ্রমিকরা দেশে কোনো আইনি সমস্যায় পড়লে লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা আইনি সহায়তা পাবেন। এ জন্য একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। সেখানে যুগ্ম জেলা জজ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি দুবাই সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, সেখানকার শ্রমিকদের জীবন অত্যন্ত কষ্টের। সকালে বাথরুমে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো, কাজের জন্য দুই ঘণ্টা আগে রওনা হওয়া, রাত ৮টা-৯টায় ফিরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা এবং রান্না করা—এত পরিশ্রমের পরও অন্যান্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা অনেক কম মজুরি পান। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য তিনি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রবাসীদের অন্যতম সংকটের জন্য অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে দায়ী করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে, ইতোমধ্যে ৫ হাজার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। আরও অনেক ভিসা বাতিলের অপেক্ষায় রয়েছে।
এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, অনেক এজেন্সি এমন ভুয়া সনদ ও নথি জমা দিচ্ছে, যেগুলোর কোনো অস্তিত্বই নেই। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে সহজেই এসব নথির সত্যতা যাচাই করা যায়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।
রামরুর ৩০ বছরের পথচলার প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, রামরু এবং রামরু টিম শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজে এখন পর্যন্ত সম্পৃক্ত হয়নি। রামরুর বিরুদ্ধে শ্রমিকদের নামে টাকা এনে তহবিল তছরুপের কোনো অভিযোগ ওঠেনি। রামরুর চিন্তার স্বচ্ছতার মধ্যে আমরা কোনো দূষণ দেখিনি। রামরুকে কখনো লেজুড়বৃত্তি করতে দেখিনি।’
অনুষ্ঠানে তিনি আশা প্রকাশ করেন, রামরুর ৩০ বছরের পথচলা আগামী ১০০ বছরে রূপান্তরিত হবে। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, যেখানে শ্রমিকরা দেশে ফিরে এসে কাজ করবেন এবং বাংলাদেশও অন্য দেশ থেকে শ্রমিক নেবে।
- বিষয় :
- আইনমন্ত্রী
- মো. আসাদুজ্জামান
- প্রবাসী