জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধ
আমু-রাজ্জাকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে
সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু। ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ১৫:৩৯ | আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ১৫:৫২
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আগামী ২২ নভেম্বর কারাগারে থাকা ছয় আসামিকে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
আমির হোসেন আমু ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, মুহাম্মদ ফারুক খান, ড. আবদুর রাজ্জাক, ডা. দীপু মনি এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। তাঁদের মধ্যে মির্জা আজম ছাড়া বাকি ছয়জন কারাগারে রয়েছেন।
এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে অভিযোগ উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, ফারুক আহাম্মদ, মার্জিনা রায়হান ও সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শুনানিতে মামলার অভিযোগ তুলে ধরে তা আমলে নেওয়ার আবেদন জানান প্রসিকিউটর তামিম। একই সঙ্গে কারাগারে থাকা ছয় আসামিকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর এবং পলাতক মির্জা আজমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য শুনে সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। পরবর্তী শুনানির জন্য ২২ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়।
এর আগে গত ২ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। তাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় হামলা ও উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এসব নেতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁরা ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে অংশ নিয়ে আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কারফিউ জারি এবং তা কাজে লাগিয়ে হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আমির হোসেন আমুসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।