ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

কিডনি সুস্থ রাখতে মেনে চলুন ৭ নিয়ম

কিডনি সুস্থ রাখতে মেনে চলুন ৭ নিয়ম
×

প্রতীকী ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:৫৭

কিডনি মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শরীর থেকে বর্জ্য ও দূষিত পদার্থ ফিল্টারের মাধ্যমে বের করে দেওয়া, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা, শরীরে পানির ভারসাম্য রক্ষা করা এবং রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করার মতো বহু জটিল কাজ নিখুঁতভাবে করে থাকে এই অঙ্গটি। কিডনির রোগকে প্রায়শই ‘সাইলেন্ট কিলার’বলা হয়, কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিডনির কার্যক্ষমতা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বাইরে থেকে তা বোঝা যায় না। এ কারণে অল্প বয়স থেকেই কিডনি সুস্থ রাখতে সচেতন হওয়া এবং সুস্থ জীবনধারা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

কিডনি সুস্থ রাখতে কী কী করা প্রয়োজন তা জানানো হয়েছে ‘হিন্দুস্তান টাইমস’এর এক প্রতিবেদনে। যেমন-

পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস 
কিডনি সুস্থ রাখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দিনে অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পান করা উচিত। পর্যাপ্ত পানি খেলে কিডনি খুব সহজে রক্ত থেকে সোডিয়াম, ইউরিয়া ও অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দিতে পারে। এতে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও কমে।

ব্যথানাশক ওষুধ বা পেইনকিলার এড়ানো
অনেকেই সামান্য মাথাব্যথা, গা-হাত পা ব্যথা বা জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ খান। এটা ঠিক নয়। অল্প বয়স থেকে অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যথানাশক ওষুধ খেলে তা সরাসরি কিডনির ফিল্টার টিস্যু ধ্বংস করে দেয়।

রক্তচাপ ও রক্তের শর্করা (সুগার) নিয়ন্ত্রণে রাখা
উচ্চ রক্তচাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস হলো কিডনি বিকল হওয়ার দুটি প্রধান কারণ। রক্তের শর্করা ও রক্তচাপ বেশি থাকলে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে অল্প বয়স থেকেই বছরে অন্তত একবার সুগার ও উচ্চ রক্তচাপ মেপে দেখা এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

কাঁচা লবণ ও লবণাক্ত খাবার কমানো
খাবারে অতিরিক্ত লবণ(সোডিয়াম) খেলে তা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এ কারণে প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিপস, সসেজ, চানাচুর এবং পাতে অতিরিক্ত কাঁচা লবণ খাওয়া এড়িয়ে চলুন। 

অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও ধূমপান বর্জন
ধূমপান ও তামাক সেবনে কিডনির কার্যক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পায়। এ ছাড়া অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান কিডনির ছাঁকন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে শরীরে মারাত্মক টক্সিন জমে। 

সুষম আহার ও সুস্থ ওজন বজায় রাখা:
দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত প্রোটিন, রিফাইন্ড চিনি ও কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন। পুষ্টিকর শাকসবজি, ফলমূল এবং সহজে হজম হওয়া খাবার খান। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে, যা পরোক্ষভাবে কিডনিকে সুরক্ষিত রাখে।

দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম:
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট সাঁতার কাটা, জগিং করা, সাইকেল চালানো বা দ্রুত হাঁটার মতো অ্যারোবিক ব্যায়াম করুন। এর ফলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে। সেই সঙ্গে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

কখন কিডনি পরীক্ষা  করানো জরুরি?
যদি পরিবারে আগে থেকে কারও কিডনির রোগ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকে, তাহলে ২৫-৩০ বছর বয়সের পর থেকেই বছরে অন্তত একবার রক্তের ‘সিরম ক্রিয়েটিনিন’এবং প্রস্রাবের ‘অ্যালবুমিন’পরীক্ষা করানো ভালো। 

আরও পড়ুন

×